ট্রাম্পের সঙ্গে কোহলির তুলনা অসি মিডিয়ার

0
151

মেলবোর্ন : মাঠের মধ্যে ব্যাট-বলের লড়াই থেমে গিয়েছে অমীমাংসিত ভাবে। তবে মাঠের বাইরে বিরাট কোহলিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করা জারি অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ার। অসি মিডিয়ার টানা সমালোচনার মুখে তাদের খোঁচা দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। এ বার তার জেরেই বিরাটকে ক্রিকেটের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে সম্বোধন করে বসল অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া। বিরাটের আগ্রাসী মনোভাবকে ক্রিকেটের স্পিরিটের পক্ষে ক্ষতিকর বলে সিরিজের শুরু থেকে খোঁচা দিয়ে আসছে সে দেশের মিডিয়া। অসি শিবিরের স্লেজিং তথা অধুনা ‘মেন্টাল ডিসইন্টিগ্রেশন’ (মনোসংযোগে ব্যাঘাত) যদিও তাদের কাছে খেলারই অঙ্গ। পুনে টেস্টে জিতে কিছুটা ভারতীয় দলকে হেয় করলেও বেঙ্গালুরু টেস্টে হারের পর থেকে গোঁসা হয়েছে তাদের। একের পর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছে অসি মিডিয়া। প্রথমে বেঙ্গালুরু টেস্টে প্রতিটি উইকেট পড়ার পরে বিরাটের সেলিব্রেশনকে খোঁচা দেওয়া ও পরে বিরাটের সঙ্গে পশুর তুলনা করে চরম অভদ্রতা দেখিয়েছে সে দেশের মিডিয়া। এ বার আবার ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা।

আসলে বিরাটকে ঘিরে অসি মিডিয়ার এ হেন আক্রমণের শুরুটা স্টিভ স্মিথের ‘বুদ্ধিভ্রম’-এর ঘটনা থেকে। স্মিথের ড্রেসিংরুমে তাকিয়ে ইঙ্গিত জানতে চাওয়াটা তার মতে ‘ক্ষণিকের বুদ্ধিভ্রমে ভুল’ হলেও সে দেশের মিডিয়ার কাছে মোটেই নয়। আম্পায়ারের দিকে গোটা ঘটনার প্রতিবাদ করে বিরাটের ছুটে যাওয়াটা তাদের চোখে অপরাধ। ক্রিকেটীয় স্পিরিট ভঙ্গ। সেই ঘটনার জেরে শুরু হওয়া মাঠের বাইরের বিবাদ বারবার প্রমাণ করেছে অসি মিডিয়ার নির্লজ্জ রূপ। কয়েক জন এটা বলতেও পিছপা হননি, আসলে ভারতের লাফ বেঙ্গালুরু টেস্ট জেতা নিয়ে নয়, টেস্টে এক নম্বর স্থানের দখল রাখা নিয়ে। তা হলেই যে ক্রিকেটবর্ষের শেষে বিসিসিআইয়ের কোষাগারে অনেকটা অর্থ ঢুকবে। স্মিথের ঘটনাটি যে বিরাট  ভালোভাবে মোটেই নেননি, বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর ঠিক সেটা ধরেই বিরাটের মনসংযোগে টানা চিড় ধরাতে বিতর্কের পর বিতর্ক করে চলেছে সে দেশের মিডিয়া।

সাংবাদিক সম্মেলনে টানা বাজে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে বিরাট অসি মিডিয়াকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “ভারতীয় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ক্রিকেট নিয়েই জানতে চান, আর আপনারা (অসি মিডিয়া) প্রশ্ন করলেই তা বিতর্ক উসকে দেওয়ার দিকে যায় কেন বলুন তো?” এতেই যেন মৌচাকে ঢিল পড়ার মতো অবস্থা। গোটা ঘটনা দেখে সুনীল গাভাসকার বিরাটের  উদ্দেশে দারুণ এক পরামর্শ দিয়েছেন – “অসি মিডিয়ার কাণ্ডকারখানা দেখে তাদের আসলে ওদের দলের সাপোর্ট স্টাফ বলে মনে হচ্ছে। মাঠের বাইরের অনেক ইস্যুতে ভারতীয় দলকে মাথা গলাতে হয়েছে, এ বার সময় এসেছে সব বাদ দিয়ে ক্রিকেটে মনোনিবেশ করার।”

ক্রিকেট সমর্থকদের বেশির ভাগই সেটাই চাইছেন। কিন্তু রাঁচি টেস্টে স্মিথ কাঁধে হাত দিয়ে বিরাটকে ব্যঙ্গ করেননি, এই দাবিতে ফের সোচ্চার হয়েছে অসি মিডিয়া। স্টার স্পোর্টসের ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে, যা থেকে তাঁরা জেনেছেন আখেরে এক সতীর্থের হাত স্মিথের কাঁধে ছিল! যদিও ডিআরএসের পরে অসি দলের হাততালি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন।

অসিদের বিরুদ্ধে বিরাটের আগ্রাসী মনোভাবের জেরে অনেকেই যেমন তাঁর মধ্যে সৌরভ গাঙ্গুলির ছায়া দেখছেন, তেমনই অনেকেই আবার মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো বিরাটকে কিছুটা মাথা ঠান্ডা রাখার পক্ষেও সওয়াল করছেন। অনেকের মতেই, আবেগপ্রবণ বিরাটের জন্যই বাকি ভারতীয় ক্রিকেটাররাও জড়িয়ে পড়ছেন কথা কাটাকাটিতে। আবার অনেকে বলছেন, চুপ করে শোনার দিন শেষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আগ্রাসী মনোভাবেরই দরকার। 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here