ইস্টবেঙ্গল রিক্রুটারদের ‘মিথ্যেবাদী’ তোপ বাগান-কর্তাদের

0
104

সানি চক্রবর্তী :

ফুটবলার সই করাতে গিয়ে মিথ্যে কথার আশ্রয় নিলে শ্যাম ও কুল দুই-ই খোওয়াতে হয়। এমনটাই মত মোহনবাগানের অর্থসচিব দেবাশিস দত্তের।

দল গঠন শেষ, আই লিগের দু’টো ম্যাচে খেলা হয়ে গিয়েছে। তার পরে হঠাৎ কেন এই ধরনের কথা? উল্লেখ্য, প্রসঙ্গ আই লিগের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলার সনি নর্ডি ও জেজে লালপেখলুয়ার দলভুক্তি। মিনার্ভা পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে সনির প্রসঙ্গে অর্থসচিব বলছিলেন, “সনিকে পেতে ইস্টবেঙ্গলের তরফে কোনো বেগই পেতে হয়নি। বরং তুরস্কের একটি ক্লাব ছিল মাথা ব্যথার কারণ। তবে গোটা ব্যাপারটা সহজ করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের মিথ্যে কথা বলা। কারোর নাম না বলেই বলব, ওদের তরফে জেজে ও সনি দু’জনের কাছেই মিথ্যে কথা বলা হয়েছিল। দু’জনকেই ওরা জানিয়েছিল, অপর জনের সই করা নিশ্চিত। আসলে যে কথার কোনো ভিত্তি ছিল না। সনি গোটা বিষয়টির পরে জেজেকে ফোন করে হাইতি থেকে। তখনই ওদের দু’জনের মধ্যে কথা হয়ে যাওয়ায় গোটা ব্যাপারটাই পরিষ্কার হয়ে যায় ওদের কাছে।”

পাশে বসা সহ-সচিব সৃঞ্জয় সেন বললেন, “আখেরে তো জেজে, সনির দর বাড়াতেই এই খেলা খেলেছিল ওরা। গোটা ব্যাপারটাই বুঝেছিলাম এবং বরাবর ওদের দলে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসীও।” সহ-সচিবের কথার রেশ ধরেই অর্থসচিবের সংযোজন, “মোহনবাগানে খেলা কোনো ফুটবলারকে চার-পাঁচটা ক্লাব যদি না পেতে ঝাঁপায়, তা হলে সে আর কেমন করে এখানের ফুটবলার হয়।”

দল গঠনে বাগান কর্তারা উতরে গেলেও এ বার ফের নতুন বাধা তাদের সামনে।

আই লিগের জন্য রবীন্দ্র সরোবরে ম্যাচ আয়োজনের ছাড়পত্র পেলেও এএফসি কাপের ম্যাচের জন্য তা মিলছে না। উল্লেখ্য, যুবভারতীর মতোই গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামও অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ভেনু হওয়ায় তা পাবে না মোহনবাগান। তাই ফিরতি লেগের আই লিগ ও এএফসি কাপের ম্যাচগুলো তারা রবীন্দ্র সরোবরেই করতে চায়। যদিও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হওয়ার বেশ কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় বেঁকে বসেছে এএফসি। বাকেট চেয়ার, বিভিন্ন সুবিধাযু্ক্ত ঘর না থাকায় তারা খেলার ছাড়পত্র দিতে নারাজ। তাই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটা মেটানোর জন্য ইতিমধ্যে ময়দানে নেমে পড়েছেন বাগান-কর্তারা। অন্য দিকে ডার্বি ঘিরে মাত্র ১০ হাজার সমর্থকের বসার বন্দোবস্ত হবে, এ হেন রবীন্দ্র সরোবরে খেলা হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে ঘোরতর সন্দেহ। বাগান-কর্তারা যদিও প্রত্যয়ী কন্ঠে বলছেন, “সংবাদমাধ্যম যদি চায়, তা হলে কলকাতায় ডার্বি হবে।”

গোটা ব্যাপারটিতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। এপ্রিলের মাঝামাঝি কোথায় ডার্বি হবে, তা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন থেকে ডার্বির স্থান আন্দাজ করাটা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ারই সামিল।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here