জলপাইগুড়ি শিশু-পাচার কাণ্ডে নাম জড়াল বিজেপি নেত্রীর

0
183

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শিশু-পাচার কাণ্ডে স্পষ্ট হল রাজনৈতিক যোগ। নাম জড়াল এক বিজেপি নেত্রীর। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ওই বিজেপির নেত্রী জুহি চৌধুরী দলের মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদক।

সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি পুলিশের কাছে সিআইডির দায়ের করা অভিযোগে জুহি চৌধুরীর নাম রয়েছে। ধৃত বিমলা শিশুগৃহের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি সিআইডির। হোমের লাইসেন্স নবীকরণ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে জুহি নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি, হোমের ব্যাপারে কথাবার্তার জন্য চন্দনাদেবীকে নিয়ে দিল্লির নর্থ ব্লকে কয়েক জন পদাধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন জুহিদেবী। রবিবারও রাজধানী এক্সপ্রেসে তাঁদের ফের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল।

মোটা টাকা কমিশনের প্রলোভনে পা দিয়ে ওই বিজেপি নেত্রী চন্দনাদেবীকে সাহায্য করতেন বলে সিআইডি তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারী দলের সন্দেহ, বিদেশে শিশু পাচারের ক্ষেত্রেও চন্দনাদেবীকে সাহায্য করে থাকতে পারেন জুহিদেবী। চন্দনাদেবী ও তাঁর সহযোগী সোনালি মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর এ বার ওই বিজেপি নেত্রীর দিকেই নজর সিআইডির। জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে কথা বলতে তাঁর বাড়িতেও গিয়েছিলেন সিআইডির আধিকারিকরা। কিন্তু তিনি না থাকায় দেখা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মোবাইলও বন্ধ রয়েছে। প্রসঙ্গত গত বছরের শেষ দিকে বাদুড়িয়াতেও শিশু-পাচার চক্রে নাম জড়িয়েছিল এক বিজেপি নেতার।

এ দিকে এই ঘটনায় বিজেপির নাম জড়িয়ে যেতেই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নেমে পড়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে জুহি চৌধুরীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শহরের ডিবিসি রোডে বিজেপির জেলা দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কুশপুতুলও দাহ করা হয়। অভিযুক্ত জুহিদেবী দ্রুত আত্মসমর্পণ না করলে বিজেপির দলীয় দফতর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আভিজিৎ সিনহা। পিছিয়ে নেই বামেরাও। সোমবার থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা। তাঁদেরও দাবি, দ্রুত অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রীকে গ্রেফতার করতে হবে। যদিও এ বিষয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি দীপেন প্রামাণিক জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সব জানিয়েছেন, যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা রাজ্য নেতৃত্বই নেবে।

এ দিকে শিশু-পাচার চক্রে ধীরে ধীরে আরও পরিষ্কার হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ। যে ১৭টি শিশুকে অবৈধ ভাবে দত্তক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে অন্তত চারটি শিশু বিদেশে পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে আসছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের এক দম্পতির কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁদের হাতে শিশু পাচার করার আগেই শনিবার গ্রেফতার হন চন্দনাদেবী। তাঁর সংস্থা নর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের অধীনে থাকা আরও একটি হোম সম্পর্কেও খোঁজখবর নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন ধৃত চন্দনা চক্রবর্তী ও সোনালি মণ্ডল। তাঁদের লাগাতার জেরা করছেন সিআইডির আধিকারিকরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here