শিশুপাচার: চন্দনা চক্রবর্তীর ভাই জলপাইগুড়িতে ধৃত

0
147

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: এ বার সিআইডির হাতে গ্রেফতার চন্দনা চক্রবর্তীর ভাই মানস ভৌমিক। জলপাইগুড়ির ৪নং ঘুমটির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাড়ির নীচেই রয়েছে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অফিস, যেটি ইতিমধ্যেই সিল করে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, বেআইনি ভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার যে অভিযোগ চন্দনা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠেছে তাতে মানস ভৌমিকও জড়িত। পেশায় তিনি জলপাইগুড়ি ব্লক ভূমি ও রাজস্ব দফতরের কর্মী। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে তিনি শহরের পরিচিত মুখ।

গত শনিবার ওই বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় নর্থবেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তীকে। ওই সংস্থার অধীনে ‘বিমলা শিশুগৃহ’ ও ‘আশ্রয় শর্ট স্টে হোম’ রয়েছে। ‘বিমলা শিশুগৃহ’ থেকে দত্তক দেওয়ার নামে শিশুপাচারের অভিযোগ ওঠে চন্দনা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ‘বিমলা শিশুগৃহের’ চিপ অ্যাডপশন অফিসার সোনালি মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়। আজ গ্রেফতার করা হল মানস ভৌমিককেও। সিআইডির বিশেষ সূত্র জানাচ্ছে, দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন মানস ভৌমিক। দত্তক নিতে ইচ্ছুক দম্পতিদের বাড়ি গিয়ে তাঁদের অবস্থা খতিয়ে দেখতেন তিনি। ওই দম্পতিরা দত্তক নেওয়ার উপযুক্ত কি না, তার ‘হোম স্টাডি’ রিপোর্ট জমা দিতেন ‘বিমলা শিশুগৃহের’ চিফ অ্যাডাপশন অফিসারের কাছে। এ ছাড়া নিজেকে চন্দনার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবেও নিজেকে পরিচয় দিতেন। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকার যে অবৈধ লেনদেন হত তার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মানস। চন্দনার গ্রেফতারির পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি।

jalpai
এই বাড়ি থেকেই ধরা হয় মানসবাবুকে।

বৃহস্পতিবার তদন্তকারী দলটি ‘সোর্স’ মারফত খবর পায় হোম সংক্রান্ত কিছু গোপনীয় নথিভর্তি একটি ব্যাগ সরিয়ে নিতে বাড়ি এসেছেন মানস। বিকেলেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান সিআইডির আধিকারিকেরা। তাঁকে বাড়িতেই দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়। কথায় অসংগতি মেলায় তাঁকে আটক করে রাতে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানেও এক প্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আগামীকাল শুক্রবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে। তাঁর কাছ থেকে শিশুপাচার সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here