ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালের আলোচনাসভায় জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হল অস্ত্রোপচার

0
176

কলকাতা : লজ্জা-ঘৃণা-ভয়, তিন থাকতে নয়। না, এখন এ সব ভাবার দিন আর নেই। শরীরের যে কোনো জায়গার সামান্য অস্বস্তিটুকু মেনে নিতে নারাজ মানুষ। তবুও কখনও কখনও একটু অবহেলায় অনেক বড়ো ঝুঁকি জীবনে এসে যায়। আর সেই সব সমস্যা কোথায়, কখন, কেন শরীরে এসে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনাসভা ও শল্যচিকিৎসার সরাসরি সম্প্রচার করা হল সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ, লোকে যাকে চেনে ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল নামে।

সম্প্রতি ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালে বার্ষিক রাজ্য শল্যচিকিৎসা সম্মেলন ২০১৭’ অনুষ্ঠিত হয়। ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোবটিক সার্জন গারেথ মরিস স্টিফ, মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্যাঙ্ক্রিয়াটিক ক্যানসার সার্জন শৈলেশ শ্রীখান্ডে ও মনীশ ভান্ডারে, কোয়েম্বত্তুর থেকে কোলনিক ক্যানসার ও হার্নিয়ার ল্যাপারোস্কপিক সার্জন সেন্থিলনাথন, বারিয়াট্রিক সার্জন সরফারাজ বেগ সহ কলকাতা ও রাজ্যের দু’শো চিকিৎসক।

সম্মেলনের প্রথম দিনে সাতটি অপারেশন রাখা হয়। অগ্ন্যাশয়ের অপারেশনটি করতে সময় লাগে ছ’ঘন্টা। রোগীর বাড়ির অনুমতি নিয়ে চিকিৎসাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় অডিটোরিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে। বিদেশে কী ভাবে রোবটের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয় তা-ও ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়েছেন সার্জন গারেথ মরিস স্টিফ। স্বাভাবিক কৌতূহল থেকে উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন। ১১৫ কেজি ওজনের ২৫ বছরের রোগীর পাকস্থলীর অস্ত্রোপচার করেন কলকাতার চিকিৎসক। পাকস্থলীর কিছুটা অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার হয় কোলনের, ব্রেনের ও হার্নিয়ার। ছিল স্তনের চিকিৎসাও। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি ছিল ক্যানসার থেকে দ্রুত আরোগ্যের কামনা। পাকস্থলী ও কোলনের রোগী বাড়ি গিয়েছেন।

hosp-1

কলকাতার বাইরে ও বিদেশ থেকে কেন চিকিৎসক আনার প্রয়োজন হল? উত্তরে ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল ডাইরেক্টর ও শল্যচিকিৎসক অর্ণব গুপ্ত জানান, অগ্ন্যাশয়ের অপারেশনটির ক্ষেত্রে ওঁরা দুজনেই বিখ্যাত। আর অনেকের জানার আগ্রহ, যাঁরা প্রশিক্ষণে আছেন তাঁদের প্রয়োজনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও একই কারণে সার্জন গারেথ মরিস স্টিফকে আনা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা কোথায়, কী ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা চাক্ষুস করার জন্য। আর রোগীর পরিবারও কিছুটা স্বস্তিতে থাকেন। বাকি দু’দিন থেকেছে নানা আলোচনা। রোগী-পরিবার ও চিকিৎসকদের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর। এ সব থেকে উঠে এসেছে চিকিৎসার স্বচ্ছতা। হাসপাতালের সবুজ পরিবেশ যা রোগীকে আরও কিছুটা সুস্থ করে তোলে তা এখানে আছে। আছে পুকুরে ভেসে থাকা হাঁস ও ট্রয় ট্রেন ‑ শিশু রোগীদের খানিক হলেও আনন্দ দেয়, যন্ত্রণা সত্ত্বেও হাসি ফোটে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা। সম্মেলন উদ্বোধন করেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here