নেওড়া ভ্যালিতে রয়্যাল বেঙ্গল! গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ল ছবি

0
463

নিজস্ব সংবাদদাতা: রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য আর রহস্য রইল না। রহস্যের পর্দা ভেদ করে টাইগার  ধরা দিলেন ক্যামেরার চোখে। বাংলার ‘বাঘ’ প্রকাশ্যে আসতেই রাতারাতি শিরোনামে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান। ২৩ জানুয়ারি রাতে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের ছবি ধরা পড়েছে বন দফতরের গোপন ক্যামেরায়।

কালিম্পং মহকুমার নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান। জলপাইগুড়ি বনবিভাগের আওতায় থাকা এই ‘ভার্জিন হিল ফরেস্ট’ সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভেদ্য। ১৯৯৮ সালের বাঘগণনায় বাঘের পায়ের ছাপ সহ বিভিন্ন চিহ্ন দেখে ১৮টি বাঘের অস্তিত্ব পেয়েছিল বন দফতর। যদিও সরাসরি বাঘ চাক্ষুষ হয়নি গণনাকারী দলের। সেটা ছিল নেওড়াভ্যালির প্রায় ১১ হাজার ফুট উচ্চতায়। যেমন বাঘ থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি উত্তরবঙ্গের একমাত্র ব্যাঘ্র অভয়ারণ্য বক্সায়। স্বাভাবিক ভাবেই উত্তরের বনাঞ্চলে আদৌ বাঘ আছে কি না তা নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। তবে এ বার সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বাঘের ছবি মেলায় উচ্ছ্বসিত বন দফতর।
neora
 ১৯ জানুয়ারি নেওড়াভ্যালির প্রায় ৭৫০০ ফুট উচ্চতায় একটি বাঘের দেখা পান এক ট্যাক্সিচালক। অনমোল ছেত্রি নামে ওই ট্যাক্সিচালক মোবাইল ক্যামেরায় তার ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। নড়েচড়ে বসে বন দফতর। এরপর ২৫ জানুয়ারি জঙ্গলে বন দফতরের লাগানো ক্যামেরা পরীক্ষা করার পর বাঘের ছবিটি দেখতে পান বনকর্মীরা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৩ জানুয়ারি রাত ৮টা ২৭ মিনিটে ওই অঞ্চল পার হচ্ছে বাঘটি।
উত্তরবঙ্গ বনপ্রাণ বিভাগের বনপাল সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এই প্রথম কোথাও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব ক্যামেরাবন্দি হল।  তবে দু’দিন ছবিতে ধরা পড়া বাঘ দু’টি আলাদা কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বনপাল। ছবি পাওয়ার পর সেখানে অভিজ্ঞ বনকর্মীদের পাঠানো হয়েছে পায়ের ছাপ পরীক্ষার জন্য। ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘ স্ত্রী না পুরুষ তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
বাঘের সন্ধান পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত পশু ও পরিবেশ প্রেমী সংগঠনগুলি। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত, অবিলম্বে নেওড়াভ্যালিকে ‘টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট’-এর স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনায় উৎসাহিত পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরাও। লাভার পর্যটন ব্যবসায়ী সুরজিৎ পাত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই পর্যটকেরা ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণ হওয়ার পর দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এখানে ভিড় জমাবেন বলেই মনে করছেন তাঁরা।
যদিও এ বিষয়ে কিছুটা আশঙ্কায় রয়েছেন বন বিভাগ। পর্যটকদের ভিড় বাড়লে ব্যাঘ্রকুল বিরক্ত হতেই পারে। তবে রয়্যাল বেঙ্গলের রাজকীয় হুঙ্কারে নেওড়াভ্যালি যে এখন জমজমাট তা বলাই বাহুল্য।  
বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here