বছর দুয়েক বন্ধ থাকার পর খুলল জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউস

0
63

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: রুটিরুজি ফিরে পেয়ে মুখে হাসি ফিরল প্রায় ৩ হাজার পরিবারে। বুধবার থেকে খুলে গেল জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউস।

জলপাইগুড়ির রানিনগরে রয়েছে ভারত সরকারের অধীনস্থ সেন্ট্রাল ওয়ারহাউসিং কর্পোরেশনের এই ওয়্যারহাউসটি। গোটা জেলার রেশনের খাদ্যসামগ্রী এইখানে মজুত করা হত। ট্রাকমালিক, গাড়িচালক, শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ৩০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হত এখানে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই এই ওয়্যারহাউসটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরিবর্তে নিউ জলপাইগুড়ির ওয়্যারহাউসটিকে ব্যবহার করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত পড়ে এর সঙ্গে যুক্ত মানুষদের। রুটিরুজি হারিয়ে পথে বসেন এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত শ্রমিক, মজদুর, গাড়িচালক, ট্রাকমালিক-সহ অনেকেই।

অনেকে কাজের খোঁজে চলে যান ভিন রাজ্যে। জলপাইগুড়ি ট্রাক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সঞ্জীব ঘোষ জানিয়েছেন, অবস্থা এতটাই সঙ্গীন হয়ে পড়ে যে অনেক ট্রাকমালিক তাঁদের ট্রাক বিক্রি করে দেন দেনার দায়ে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে ‘ভুখা’ মানুষেরা অন্দোলনের পথে পা বাড়ান। তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ায় তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। চলে বিক্ষোভ-আন্দোলন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে অনশনে বসেন আন্দোলনকারীরা। সেই সময় জলপাইগুড়িতে এসে তাঁদের সমস্যার সুরাহার আশ্বাস দেন খাদ্যমন্ত্রী জোত্যিপ্রিয় মল্লিক। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরে তাঁর সেই উদ্যোগ সফল হয়। সিদ্ধান্ত হয় রাজ্য সরকার এই ওয়্যারহাউসটির দায়িত্ব নেবে আগামী নয় বছরের জন্য। এই মর্মে সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউসিং কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়েছে রাজ্য সরকারের। পাশাপাশি এ-ও সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্য খাদ্য দফতরের দেওয়া রেশনের খাদ্যসামগ্রী এইখানেই রাখা হবে। এই সিদ্ধান্ত জানার পরেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সকলে। মহ: হালিম নামে এক শ্রমিক জানিয়েছেন, এত দিন কাজের জন্য বাইরে যেতে হচ্ছিল, ওয়্যারহাউসটি খুলে যাওয়ায় কাজ ফিরে পেয়ে তাদের সমস্যা মিটল। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল শ্রমিক নেতা স্বপন সরকার জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই সমস্যা মিটছে, কাজ ফিরে পাচ্ছেন এর সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here