টাকার ফাঁদে পা দিচ্ছেন শিশু সুরক্ষা আধিকারিকরা, বললেন রাজ্য কমিশন-প্রধান

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শিশুদের অধিকার রক্ষার ও নিরাপত্তার জন্য জেলায় জেলায় রয়েছে শিশু সুরক্ষা সমিতি। অথচ তাদের অজ্ঞতার জন্যই ঘটে চলেছে শিশুপাচার কাণ্ডের মতো ঘটনা। শুক্রবার শিশুপাচার কাণ্ডের তদন্তে জলপাইগুড়িতে এসে এই মন্তব্য করেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস’-এর চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী।

বৃহস্পতিবার কমিশনের সচিব সুপর্ণা দাস এবং চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী দার্জিলিঙে আসেন। সেখানকার শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর শুক্রবার বিকেলে আসেন জলপাইগুড়িতে। এখানে সার্কিট হাউসে জেলাশাসক রচনা ভগতের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, শিশু সুরক্ষা সমিতির অনেক সদস্যই সঠিক আইন জানেন না। যার ফাঁক গলে শিশুপাচারের মতো অপরাধ ঘটছে। নতুন করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করবে কমিশন, জানিয়েছেন চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। ধৃত শাস্মিতা ঘোষ এবং মৃণাল ঘোষ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, আর্থিক প্রলোভনে পা দিয়ে শিশু সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা যদি এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তা হলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে জেলা প্রশাসন এবং সিআইডি খুব ভালো কাজ করেছে বলে মত তাঁর। যদিও চলতি সপ্তাহেই শিশুপাচার কাণ্ডের তদন্তে এসে জাতীয় শিশু সুরক্ষা আয়োগের দুই সদস্য প্রিয়াংক কানুনগো ও যশবন্ত জৈন প্রশাসনের ভূমিকার জোর সমালোচনা করেছিলেন, অভিযোগ করেছিলেন অসহযোগিতারও। তবে এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রাজ্যের কমিশনের চেয়ারপার্সন।

এ দিন বিকেলেই চন্দনা চক্রবর্তীর ‘বিমলা শিশুগৃহে’ যান কমিশনের সচিব ও চেয়ারপার্সন। এ ছাড়াও জলপাইগুড়ি শহরের অন্য দু’টি হোমও পরিদর্শন করেন তাঁরা। চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, হোমগুলির ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। কাল। শনিবার তাঁরা জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিজ্ঞাপন

অন্য দিকে, সিআইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষের পর শুক্রবার ফের আদালতে নিয়ে আসা হয় ধৃত মৃণাল ঘোষ ও চিকিৎসক দেবাশিস চন্দকে। আজ আর তাঁদের নিজেদের হেফাজতে চায়নি সিআইডি। অভিযুক্তদের আইনজীবী অলকেশ চক্রবর্তী ও শংকর দে জামিনের আবদেন করলেও অভিযোগের গুরুত্ব দেখে বিচারক তা খারিজ করে দেন। তাঁদের ৭দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আপাতত তাঁদের ঠাঁই জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রীর সুরই শোনা গেল স্বামী মৃণাল ঘোষের গলাতেও। দার্জিলিং জেলার সাসপেণ্ডেড শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের দাবি, যা করেছেন সরকারি নির্দেশেই করেছেন। গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়ার পর একই অভিযোগ করেছিলেন তাঁর স্ত্রী জলপাইগুড়ি জেলার বরখাস্ত হওয়া শিশু সুরক্ষা আধিকারিক শাস্মিতা ঘোষও।

শুক্রবার পিনটেল ভিলেজে শাস্মিতা ঘোষ ও বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডি আধিকারিকরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here