দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার স্যামসাং সংস্থার প্রধান জে ওয়াই লি

0
119

সোল: নতুন করে আঘাত নেমে এল স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী সর্ববৃহৎ সংস্থা স্যামসাং-এর উপর। গ্রুপ প্রধান জে ওয়াই লি-কে শুক্রবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইকে ইমপিচ করেছিল, সেই কেলেঙ্কারিতেই জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল স্যামসাং প্রধানকে। লি হলেন এই বহুবিস্তৃত সংস্থাটির তৃতীয় প্রজন্মের নেতা।

স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-কে বৃহস্পতিবার সোল ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে সারা দিন ধরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি চলে। সন্ধ্যায় সেই শুনানি শেষ হলে লি আদালত ছেড়ে চলে যান। দশ ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় বিচারক তাঁর রায় ঘোষণা করলে ৪৮ বছরের লি-কে গ্রেফতার করা হয়।

লি-র গ্রেফতারের ফলে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ১.৪ শতাংশ পড়েছে। আর স্যামসাং গোষ্ঠীর কার্যত হোল্ডিং কোম্পানি যেটি সেই স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্প-এর শেয়ার পড়েছে ২.৮ শতাংশ। সামগ্রিক ভাবে বাজার পড়েছে ০.২ শতাংশ।

লি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য সরকারি উকিলরা ১০ দিন সময় পাবেন। তাঁরা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনও করতে পারেন। তার পর আদালতকে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে। স্যামসাং গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লি-র গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আবেদন করা হবে কিনা বা তাঁর জামিন প্রার্থনা করা হবে কিনা, সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে স্যামসাং গোষ্ঠী এবং লি-র তরফে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার সব রকম অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এক মাস আগেই লি-কে গ্রেফতার করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল একই আদালত। গত মঙ্গলবার বিশেষ প্রসিকিউটর অফিস স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স-এর প্রেসিডেন্ট পার্ক সাং-জিনকে গ্রেফতার করার আবেদন জানায়। সেই সঙ্গে সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-কেও গ্রেফতার করার জন্য ফের আবেদন জানানো হয়। পার্ক সাং-জিন কোরিয়া ইকুয়েস্ট্রিয়ান ফেডারেশনেরও প্রধান। তাঁর ‘পদ, ক্ষমতার পরিধি এবং প্রকৃত ভূমিকা’ খতিয়ে দেখে আদালত সাং-জিনকে গ্রেফতারের আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে সরকারি উকিলরা যে হেতু লি-র বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ জোগাড় হয়েছে বলে জানান, সে হেতু আদালতে তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়।     

লি-র গ্রেফতারিতে স্যামসাং-এর দৈনন্দিন কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, কোম্পানি চলে দক্ষ পেশাদার ম্যানেজার দিয়ে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা হতে পারে বলে মনে করছেন না তাঁরা।   

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here