দাঙ্গা আর নকশাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ থাকায় সেন্সর বোর্ডের কোপে কলকাতার ইতিহাসের তথ্যচিত্র

0
kolkata

ওয়েবডেস্ক: শহর কলকাতার ক্রমবিবর্তনের ধাপটিকে যদি ক্যামেরাবন্দি করতেই হয়, তবে ১৯৪৬-এর দাঙ্গা, দেশভাগ এবং সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলনকে কি বাদ দেওয়া যাবে?

অথচ এবার সেরকমই দাবি করছে দেশের সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন, সংক্ষেপে বললে সেন্সর বোর্ড। বোর্ডের এমন দাবির মুখে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ পরিচালক অনির্বাণ দত্ত। কলকাতা আর তার ইতিহাস নিয়ে ক্যামেরাবন্দি করা ‘কালীক্ষেত্র’ নামের তথ্যচিত্রটির উপরেই এসে পড়েছে এই কাঁচির কোপ!

৫৬ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে পরিচালক ধরতে চেয়েছেন কলকাতার ইতিহাসের বদলে যাওয়া ছবিটাকে। যার শুরুটা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতক থেকে। প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক- কলকাতার ইতিহাসের সবকটি স্তরকেই এ ভাবে ‘কালীক্ষেত্র’-এ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তিনি। এবং সেই মতো তৈরিও করেছেন তথ্যচিত্রটি। তার পরেই সেন্সর বোর্ডের তরফ থেকে উঠেছে তীব্র আপত্তি।

বিজ্ঞাপন

“ছবিটায় সব মিলিয়ে ৫টি কাটের দাবি জানিয়েছে সেন্সর বোর্ড। যার সবকটাই অযৌক্তিক তো বটেই, এমনকী অদ্ভুতও। সেন্সর বোর্ড তো এবার রাজনীতিকেই বদলে দিতে চাইছে”, অভিযোগ জানিয়েছেন পরিচালক।

ঠিক কোন কোন জায়গা ছবি থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেন্সর বোর্ড?

১৯৪৬-এর দাঙ্গার দিনে মুসলিম লিগের একটি মিছিল দেখার প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, ১৯৪৬-এর ক্যাবিনেট কমিশন নিয়ে জি ডি বিড়লার মহাত্মা গান্ধীকে লেখা চিঠির অংশ এবং নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি জায়গা যার একটিতে কাশীপুর বরানগর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ এসেছে, জানা গিয়েছে পরিচালকের বিবৃতি থেকে। “নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষিতে যখনই সিপিআই (এম) আর কংগ্রেসের প্রসঙ্গ এসেছে, তখনই তা বাদ দেওয়ার হুকুম জারি হয়েছে”, বলছেন পরিচালক।

ছবিটি আপাতত এ ভাবেই পড়ে রয়েছে সেন্সর বোর্ডের নয়াদিল্লির দফতরে। বার বার যোগাযোগ করেও বোর্ডের তরফ থেকে শুধু ওই জায়গাগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশ ছাড়া আর কিছু জানা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে পরিচালক ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন সেন্সর বোর্ড প্রধান প্রসূন জোশীর সঙ্গেও। কিন্তু তিনিও বিষয়টি নিয়ে পরিচালকের এসএমএস এবং ফোন কলের প্রত্যুত্তর দেননি।

“আমাদের ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে যাওয়া ছাড়া আর গতি নেই”, উপায়ান্তর না দেখে বলছেন পরিচালক!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here