ওয়েবডেস্ক: যাবজ্জীবন তাঁকে ঘিরে থাকা গুজব কি এ বার কমবে? না কি আরও বাড়বে?

দ্বিতীয়টার সম্ভাবনাই বেশি। কেন না, মিথ্যেটাকে নিন্দুকদের মুখের উপরে শুধরে দেওয়ার জন্য সুপ্রিয়া দেবী আর রইলেন না।

আরও পড়ুন: প্রয়াত সুপ্রিয়া দেবী

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুদিনে তাই একটু চোখ রাখা যাক তাঁর জবানবন্দিতে। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ, উত্তম কুমারের সঙ্গে সম্পর্ক- জেনে নেওয়া যাক সুপ্রিয়া নিজে কী বলেছিলেন এ সব বিষয়ে। এত দিন ধরে এই সব নিয়ে, তাঁকে কেন্দ্রে রেখে কম মিথ্যে কথা চালাচালি তো আর হয়নি।

‘এক এক সময় খারাপ লাগত’: প্রসঙ্গ সুচিত্রা

uttam suchitra

সুপ্রিয়া যে সময়ে অভিনয় করছেন, সে সময়ে আলোকবৃত্তে রয়েছেন একমাত্র সুচিত্রা সেন। এই হিসাব ছাড়াও সুচিত্রা-উত্তমের জুটি তাঁর হিংসার কারণ- এ অপবাদ জীবদ্দশায় সইতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু স্পষ্টই বলেছিলেন সুপ্রিয়া এক সাক্ষাৎকারে, সুচিত্রাকে তাঁর কখনই হিংসা হয়নি।

“তবে এক এক সময় খারাপ লাগত, ছবির কনট্র্যাক্ট হওয়ার সময় ওর নামটা আগে না-এসে সুচিত্রার নাম প্রতিবার আগে আসত। রমাদি আসলে কনট্র্যাক্টের সময়ই বলে নিতেন।”

যদিও এই বয়ানের আরেকটা দিকও রয়েছে। তা নায়িকার নাম আগে রাখা প্রসঙ্গে উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর তর্ক নিয়ে। সুচিত্রা-উত্তমের মতো সুপ্রিয়া-উত্তম কেন হয়নি?

“আমি তর্ক জুড়ে দিতাম, তা হলে আমার নামটা পরে দাও কেন? কেন আমার বেলা লেখো উত্তম-সুপ্রিয়া?”

‘এই মেয়েটা কে রে? এত ট্যাক ট্যাক করে’: প্রসঙ্গ উত্তমের সঙ্গে প্রথম দেখা

uttam supriya

“উত্তমকুমার তো আমাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। মেজদা, সেজদার সঙ্গে আড্ডা দিতেন। আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম, ওই বাড়িওয়ালার বাসায় গানের অসর বসল। একটা ছেলে গান গাইছে। সেই কী গানের গলা! গান শেষে আমি বললাম, এখানে কেন? তুমি তো বাইরে প্যান্ডেল টাঙিয়ে গাইতে পারো। ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এই মেয়েটা কে রে? এত ট্যাক ট্যাক করে? আমার বয়স তখন ১১ আর ছেলেটির ১৮ কিংবা ১৯ হবে। এই ছেলেটিই উত্তমকুমার।”

‘তুমি নিজে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে বসে থাকবে, অথচ আমার প্রোডিউসার ঢুকতে পারবে না’: প্রসঙ্গ উত্তমের সঙ্গে বিবাহিত জীবন

uttam supriya

‘বিয়ে তো হয়েছিল আমাদের’। উত্তম কুমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বরাবর এই কথাটাই বলে এসেছেন সুপ্রিয়া। এ-ও জানাতে ভোলেননি, স্বামী হিসাবে একটু বাড়াবাড়ি রকমের অধিকারপ্রবণ ছিলেন নায়ক।

“একবার কলকাতায় গ্র্যান্ড হোটেলে ধর্মেন্দ্র এসে আমায় ফোন করেছে। উত্তম যেতে দিল না। বলল, না, তুমি কিছুতেই যাবে না। বম্বেতে কিশোর কুমারের সঙ্গে শ্যুটিং করছি। ও গিয়ে হাজির। বলল, কিছুতেই কাজ করবে না, ফিরে চলো। বাড়িতেও কারও আসার উপায় নেই। আমি রেগে বললাম, তোমার যা অ্যাটিচিউড, একটা মদ্দা মাছিও বাড়িতে ঢুকতে পারবে না। তুমি নিজে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে বসে থাকবে, অথচ আমার প্রোডিউসার ঢুকতে পারবে না। এক প্রস্থ ঝগড়া হল, তার পর দুজনেই জোর হাসলাম।”

‘খাইয়ে খাইয়ে মোটা করে দেব’: প্রসঙ্গ উত্তমের জীবনে অন্য নারী

uttam supriya

খ্যাতির যে বৃত্তে অবস্থান করতেন উত্তম কুমার, সেখানে অগণিত নারীর তাঁকে ঘিরে থাকাই স্বাভাবিক। তা নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যথা ছিল না সুপ্রিয়ার। নিজের মুখেই তিনি কবুল করেছেন সে কথা।

“তাদের আবার আমি এন্টারটেন করতাম। বলতাম, কোক খাবে? খাবার খাবে? আমি জানতাম, নিজের জায়গায় ঠিক আছি। বেশ মজাই লাগত। আর নিজেকে বলতাম, তোদের প্রচুর খাইয়ে খাইয়ে মোটা করে দেব।”

‘কিশোরী মেয়ে? বুড়ি হইনি? হা হা হা’: প্রসঙ্গ বার্ধক্য

supriya devi

জীবন বড়ো নির্মম। জরাও! বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ তার রুপোলি পর্দায় নিশ্চয়ই ধরে রাখবে যৌবনের সুপ্রিয়া দেবীকে। কিন্তু দর্শক এখনও তাঁকে সেই চোখে দেখে, এটা কি বিশ্বাস করতেন তিনি?

বছর দুয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে সে কথা জানানো মাত্রই হেসে উঠেছিলেন সুপ্রিয়া। বলেছিলেন, “কিশোরী মেয়ে? বুড়ি হইনি? হা হা হা… বয়স হলে অনেক কিছুই হয়, জানো তো? কিছু খেলেই পেটে খুব গোলমাল হয়। জার্নির ধকল আর সইতে পারি না। বয়স তো আর কম হলো না, ৮১। আর কত?”

সেই প্রশ্নের উত্তর জীবন আমাদের দিল ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারির সকালে। অনেকেই বলবেন, উত্তম কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদ এ বার হয়তো পূর্ণ হবে। যদিও সে বিশ্বাস সুপ্রিয়ার নিজের ছিল না।

“উত্তমের সঙ্গে আবার দেখা হবে, সেই বিশ্বাস আমার নেই। জীবন একটাই। তার পর সব শেষ। আর সেটা খুব নির্মমও। ভুলে যাওয়াটাই জীবন! কেউ খোঁজ নেয়? কেউ ডাকে আমায়?”

সেই অভিমানের মেঘেই আজ ঢেকে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল তারা!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here