আমেরিকা মুখ ফেরাতেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াল চিন

2
2254
Chinese President Xi Jinping and american president donald trump

ওয়েবডেস্ক: সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশে দেওয়া অর্থ সাহায্য করে ঠকে যাওয়ার কথা জানিয়ে পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আটকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ সাহায্য আটকে দেওয়ার নেপথ্যে ছিল বিশ্ব রাজনীতির সুস্পষ্ট মেরুকরণের বার্তা। যা ট্রাম্প সরাসরি প্রকাশ না করলেও রাজনৈতিক ওয়াকিবাহল মহল ধারণা করেছিলেন। বোঝা গিয়েছিল, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন শাসক গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্যই ট্রাম্পের ওই টুইট-বার্তা। আবার ভারতের সঙ্গে গরম সম্পর্কে আরও আঁচ বাড়াতে সাম্প্রতিক কালে চিনের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষির বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। অর্থ সাহায্য বন্ধ করার ওই এক টুইটেই  তিনি  পাকিস্তানের চিন-প্রীতিতে লাগাম টানার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প যে সঠিক জাগয়াটিতেই আঘাত করেছেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেল চিনের আজকের ঘোষণায়।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জেং শাউং জানিয়েছেন, পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনে অভাবনীয় উদ্যোগ নিয়ে চলেছে। এর জন্য সে দেশকে অনেক আত্মবলিদানও দিতে হচ্ছে।

ট্রাম্প যখন অভিযোগ করছেন, গত ১৫ বছরে সন্ত্রাস দমন প্রকল্পে পাকিস্তানকে দেওয়া ৩৩ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়নি, তখন চিন তার থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিল। উদ্দেশ্য একটাই, পাকিস্তানকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের কাছে এশিয়ার চালিকা শক্তি হিসাবে নিজেদের মহিমাকে গৌরান্বিত করা। চিন বলেছে, বিশ্বের সামনে মহা সংকট সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে পাকিস্তান প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সেই লড়াইয়ের কথা গোটা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই জরুরি।

ভারত সম্বন্ধে কোনো উক্তি না করেই শাউং বলেছেন. সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সহায়তা করার পাশাপাশি পাকিস্তান নিজের দেশে অন্তর্ঘাত মূলক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকেও সমান ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, চিন ও পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাস মোকাবিলায় যৌথ ভাবে কাজ চালিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে তা আরও সূদরপ্রসারী হয়ে উঠবে। এই কাজকে বাস্তবায়িত করতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রত্যক্ষ ভাবে কার্যকরী হবে। একই সঙ্গে আফগানিস্থানের সঙ্গেও চিন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করে, চিনের কাছ থেকে এমন মন্তব্য মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। সাম্প্রতিক কালে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান প্রেসিডেন্টের কন্যা যে ভাবে ভারত সফরে এসেছিলেন, তাতে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের পাকিস্তান-বিরোধী প্রচার আরও তুঙ্গে উঠেছিল। আর মোদীর ভারতকে হাতে রাখতে পারলে তেল বাজার –সহ বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে পারবে আমেরিকা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

2 মন্তব্য

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here