২৬ টাকার খাবার নিয়ে চাকরি গেছিল, মিলল ২৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ

0
83

ভ্যাঙ্কুভার (কানাডা): ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর। পয়সার ব্যাগ নিয়ে অফিসে আসতে ভুলে গিয়েছিলেন বার্গার কিং-এর একটি দোকানের রাঁধুনি ঊষা রাম। ঊষা ফিজির অভিবাসী শ্রমিক। দিনের শেষে, তিনি তাঁর ম্যানেজার তায়াবা সলমনকে হিন্দিতে বলেন, ” আমি কি একটা মাছ নিয়ে যেতে পারি”? ইংরাজি ভাল জানেন না ঊষা। ওই দোকানের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মচারী কাজের সময়ের মধ্যে বিনা পয়সায় পানীয় পাবেন, কিন্তু খাবার নিতে হলে, তাঁকে অর্ধেক দাম দিতে হবে। এই নিয়মের অন্যথা করার অধিকার আছে কেবল ম্যানেজারদের। 

এরপর একটি মাছের স্যান্ডউইচ, কিছু ভাজাভুজি আর পানীয় নিয়ে দোকান ছাড়েন ঊষা। তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি। সলমন, তাঁর বস শ্রী মহম্মদকে জানান, ঊষা খাবার চুরি করে নিয়ে গেছেন। পরদিন ঊষাকে অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। বৈঠকে ছিলেন ঊষা, সলমন এবং মহম্মদ। ঊষা বলেন, তিনি ‘মাছ’ বলতে পুরোদস্তুর রাতের খাবারের (কম্বো মিল) কথা বলেছিলেন। সলমন বলেন, তিনি মনে করেছেন, ঊষা কেবলমাত্র মাছের স্যান্ডউইচ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। ভেঙে পড়েন ঊষা। কাঁদতে কাঁদতে খাবারের দাম মিটেয়ে দিতে চান। যার মূল্য ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ২৬ টাকা। মহম্মদ রাজি হননি। বৈঠকের দু-একদিন পরেই চাকরি যায় ঊষার। কোনো বাড়তি টাকাও দেওয়া হয়নি তাঁকে।

২৪ বছর ধরে ভ্যাঙ্কুভারের বিভিন্ন বার্গার কিং-এর দোকানে কাজ করেছেন ঊষা রাম। তাঁর স্বামী শারীরিক ভাবে পঙ্গু। তাছাড়া তাঁকে তাঁর মানসিক ভাবে অসুস্থ মেয়েকে দেখাশোনাও করতে হয়। গোটা পরিবারে ঊষাই একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ।

আদালতে বিচার চলাকালীন ওই ফ্র্যানচাইজির অন্যতম মালিক শ্রী মহম্মদ বলেন, উষার সঙ্গে তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে কাজ করছেন। ঊষা একজন ‘চমৎকার মহিলা’ ও ‘ভাল কর্মী’।

usha-ram

ভ্যাঙ্কুভারের একটি আদালতের বিচারক লিজা ওয়ারেন, দোকান কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায় ও অযথা’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ওয়ারেন বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিল ঊষার বয়স, কম পড়াশোনা এবং ইংরাজি জ্ঞানের স্বল্পতার কথা মাথায় রাখা। বর্তমানে ঊষার বয়স ৫৫ বছর।

আদালতে মহম্মদ বলেন, ঊষা টাকা ফেরত দিতে চাওয়ায়, তাঁর মনে হয়েছিল ওই রাঁধুনি চুরির কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন। ঊষাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে অন্যান্য কর্মচারীদের কাছে নিদর্শন রাখতে চেয়েছিলেন তাঁরা। যদিও এই যুক্তি মানেননি বিচারক।

ঘটনার সময় ঊষার বার্ষিক বেতন ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ১১ লক্ষ টাকা। বিচারক ওয়ারেন ঊষার সাধারণ ক্ষতির জন্য ১১ লক্ষ ও মানসিক আঘাতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ লক্ষ, ভারতীয় মুদ্রায় মোট ২৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থার দুই মালিক শ্রী মহম্মদ ও মাইকেল ল্যাকোম্বে-কে।

ফ্র্যানচাইজির অন্যতম মালিক মহম্মদ সম্পর্কে বিচারক ওয়ারেন বলেছেন, “ঊষা রাম কখনওই কিছু লুকোনোর চেষ্টা করেননি। তায়াবা সলমন যখন ঊষা তাঁকে ঠিক কী বলেছিলেন, সেটা জানিয়েছিলেন, তখন কি মহম্মদ তা মন দিয়ে শোনেননি? নাকি তিনি, সলমন এবং ঊষার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার বিষয়টাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিলেন”।

 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here