আট বছরের গণধর্ষিতা শিশুকন্যার মৃতদেহ মিলল জঞ্জালের স্তূপে, প্রতিবাদী জনতার উপর পুলিশের গুলি

0
684
pakistan girl raped and killed

লাহোর : আট বছরের শিশুকে প্রথমে অপহরণ তার পর গণধর্ষণ, শেষে খুন করা হল। ঘটনা পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কসৌরের রোড কোটা এলাকার। ঘটনা সামনে আসতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বুধবার অব্যাহত ছিল বিক্ষোভ। এ দিন বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায় পুলিশবাহিনী। গুলি লেগে নিহত হন দু’ জন প্রতিবাদকারী, আহত হন এক জন।

মৃতার নাম জাইনাব আনসারি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা গেছে, বাড়ি থেকে টিউশন ক্লাসে যাওয়ার পথে সে পরিচিত কারোর সঙ্গে ছিল। হয় কোনো আত্মীয় অথবা কোনও প্রতিবেশী বা পরিবারের কেউ কিংবা কোনও কাজের লোক। সেই তাঁকে অপহরণ করেছিল। শনিবার অপহরণ করা হয়েছিল জাইনাবকে। তার ঠিক চার দিন পরে কাশ্মীর চক এলাকার একটা জঞ্জালের স্তূপের উপর তার মৃতদেহ পরে থাকতে দেখা যায়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে একাধিক বার তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

মেয়ের অপহরণের সময় অভিভাবকরা ছিলেন আরবে। উমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছিল জাইনাব। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে নামামাত্রই অভিভাবকরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থাকেন। তাঁদের দাবিন, পুলিশ তাঁদের মোটেই সাহায্য করেনি। মেয়ের অপহরণের খবর পুলিশে দেওয়া হলেও তারা কোনো রকম ব্যবস্থা নেয়নি। যদি সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হত তা হলে এই ঘটনা ঘটত না। তাঁরা আরও বলেছেন, দোষীরা শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত মেয়ের দেহ সৎকার করবেন না।

ঘটনার প্রতিবাদে আগুন জ্বলে ওঠে গোটা এলাকায়। দোষীদের শাস্তির দাবিতে আর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে পথে নামেন বাসিন্দারা। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। থানা ঘেরাও করেন। থানার ভিতরে ঢিল ছুঁড়ে প্রতিবাদ করেন।

ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাঁদের ওপর গুলি চালায়। তাতেই গুলি লেগে মারা যান ওই দু’ জন বিক্ষোভকারী।

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি সাকিব নাসির পাঞ্জাবের ইনসপেক্টর জেনারেলকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি ঘটনাকে ‘শকিং’ অাখ্যা দিয়েছেন। দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

প্রতিবাদ এসেছে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিও। তিনি সরকারের তরফে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই ব্যাপারে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার করতে হবে। উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

প্রতিবাদ এসেছে সেনা, ক্রিকেট খেলোয়াড়, চিকিৎসক, বিভিন্ন রাকনৈতিক দল-সহ সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে।

 

 

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় উঠেছে। ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে।

উল্লেখ্য গত বছরেই এই এলাকায় আরও ১১টি নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিক্ষেত্রেই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়েছে। দুঃখের বিষয় এখনও অবধি এর একটি ঘটনার দোষীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কিনারা হয়নি একটাও ঘটনার।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here