শিশুপাচার কাণ্ড: জলপাইগুড়ির শিশু সুরক্ষা আধিকারিককে শো-কজ

0
105

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : লাগাতার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে। জড়িয়ে যাচ্ছে বহু প্রভাবশালীর নাম। উঠে এসেছে জলপাইগুড়ি জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সাস্মিতা ঘোষের নামও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাস্মিতা ঘোষকে ‘শো-কজ’ করেছেন জেলাশাসক রচনা ভগত। শো-কজের জবাব দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ধৃত হোমের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী ও চিফ অ্যাডাপশন অফিসার সোনালি মণ্ডলকে জেরা করে ঘটনায় সাস্মিতা ঘোষের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে সিআইডি সুত্রের দাবি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্য সুবোধ ভট্টাচার্যও। যদিও সাস্মিতা ঘোষের দাবি, শিশু সুরক্ষা আধিকারিক হওয়ার সুবাদে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও চন্দনা চক্রবর্তীকে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে সিআইডির সামনে সমস্ত নথি নিয়ে তিনি যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

পাশাপাশি এই ঘটনায় চার চিকিৎসকও জড়িত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যেই তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন তাঁরা। নবজাতকদের দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতা ও বয়স সম্পর্কে চিকিৎসকদের দেওয়া ছাড়পত্রের একটা বড় ভূমিকা থাকে। সে ক্ষেত্রেই নানা ভাবে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সি আইডি আধিকারিকরা।

abarodhএ দিকে হোমকর্ত্রী গ্রেফতার হওয়ায় এবং তাঁর কীর্তি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে বিভিন্ন মহলে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির দেবনগরে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই এলাকায় চন্দনা চক্রবর্তীর ‘আশ্রয়’ নামে একটি মেয়েদের হোম রয়েছে। সাঁঝবাতি রায় নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, এই হোমের গর্ভবতী মহিলাদের সন্তানগুলিকেই পরে দত্তক দেওয়ার নামে বিক্রি করা হত। বহু সরকারি আধিকারিক নিয়মিত এই হোমে যাতায়াত করতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই হোমটি বন্ধ করে দিক প্রশাসন। এখানে থাকা মেয়েদের অন্য হোমে সুস্থ পরিবেশে পাঠানোর দাবি তোলেন তাঁরা। প্রায় দু’ ঘন্টা অবরোধ চলার পর পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। এ দিকে বুধবার ওই হোমে যান দুই সিআইডি আধিকারিক। তারা ‘আশ্রয়’-এর কর্মী ও আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উদ্ধার করেন প্রচুর নথি। চন্দনা চক্রবর্তী পরিচালিত নর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারটিও এ দিন সিল করে দেয় সিআইডি। বিকেলে চন্দনা চক্রবর্তী ও সোনালি মণ্ডলকে নিয়ে শিলিগুড়ি যায় তদন্তকারীদের অন্য একটি দল। তাদের সন্দেহ, এই শিশুপাচার চক্রের জাল ছড়িয়ে আছে শিলিগুড়িতেও।

এ দিকে আজও এই ঘটনায় নাম জড়িয়ে যাওয়া বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী জুহি চোধুরীকে গ্রেফতারের দাবিতে জলপাইগুড়ির সিআইডি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় যুব তৃণমূল। ডিবিসি রোডে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

তদন্তে সুবিধার জন্য সিআইডির আরও একটি দল জলপাইগুড়ি এসে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে শিশুপাচার কাণ্ডে সরগরম জলপাইগুড়ির আপাত শান্ত জনজীবন।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here