কর্তৃপক্ষের দোষে মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস অসমে

0
97

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি : চোরাপথে নয়, অসমে এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষার দু-দুটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে খোদ কর্তৃপক্ষের হাত দিয়ে। ঘটনা রাজ্যের দুই প্রান্তের — এক নিম্ন অসমের বাকসা জেলার মুসলপুর এবং দুই হোজাই জেলার মোরাঝাড়ের। দুই জেলার দুই পরীক্ষাকেন্দ্রে সোমবারের নির্দিষ্ট সাধারণ গণিতের বদলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে যথাক্রমে সমাজ বিজ্ঞান ও মাতৃভাষা বিষয় অসমিয়ার প্রশ্নপত্র। এ নিষ়ে গোটা রাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক দায় মাথায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার পদত্যাগ দাবি করেছে। পাশাপাশি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, আসু-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ঘটনার তদন্ত চেয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি করেছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পরীক্ষার সোমবার ছিল দ্বিতীয় দিন। এ দিন ছিল সাধারণ গণিত পরীক্ষা। সকাল ন’টায় পরীক্ষা শুরুর আগে বাকসা জেলার মুসলপুর বড়িমাখা ০৮২ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের গণিতের বদলে দেওয়া হয় অসমিয়ার প্রশ্নপত্র। এ ঘটনা ঘটে খোদ পরীক্ষা পরিদর্শকের সামনেই। পরীক্ষার্থীরা গণিতের পরীক্ষা বলে ইনভিজিলেটরদের অবগত করলে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। আগামী ১ মার্চ অনুষ্ঠেয় অসমিয়ার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েনি কতিপয় পরীক্ষার্থী। তারা সঙ্গে সঙ্গে অসমিয়ার প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠিয়ে এগুলির ফোটোকপি করিয়ে চেষ্টা করে। এর পর সেখানে প্রায় একঘণ্টা পর অর্থাৎ দশটা থেকে ফের গণিতের পরীক্ষা শুরু হয়।

এ দিকে হোজাই জেলার মোরাঝাড়ের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রেও অনুরূপ গণিতের বদলে বিলি করা হয়েছে সমাজ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র। এখানেও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হইহট্টগোল বেঁধে গেলে পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ফের গণিতের প্রশ্নপত্র বিলি করা হয়। তবে এখানেও ঘটে বিপত্তি। কেন্দ্রের নির্দিষ্ট সংখ্যক গণিতের প্রশ্নপত্রও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করতে সক্ষম হননি কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম ছিল দু’টি প্রশ্নপত্র। এ নিয়ে হইচই কম হয়নি।

এ দিকে, রাজ্যের বহু পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য অন্ধকারেই ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। জানা গেছে, শিলচর, মাকুম, অভয়াপুরি-সহ আরও কয়েকটি জায়গা ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। উল্লেখ্য, সোমবার অসমের আবহাওয়া মেঘলা থাকায় গোটা রাজ্যই অন্ধকারে আচ্ছন্ন। তবে শিলচরের কয়েকটি কেন্দ্রে মোমবাতি বিলি করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

দু-দুটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র গোলযোগে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নয়ন শর্মা ও গুয়াহাটি মহানগর সম্পাদক বিশ্বজিৎ খাউন্দ এই ঘটনায় ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা গোটা ঘটনাবলির তদন্ত দাবি করে প্রকৃত দোষীদের শীঘ্র বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন।

ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলার পরিণাম ভালো হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছে অসমের অন্যতম ছাত্র সংগঠন সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)। তাছাড়া, আবসু সভাপতি প্রমোদ বোড়ো এবং প্রদেশ কংগ্রেস এই গাফিলতির দায় স্বীকার করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার পদত্যাগ দাবি করেছে।

এদিকে সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড অব আসাম তথা সেবা-র পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তা ছাড়া অসমিয়া ও সমাজ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ফের তৈরি করে নির্ধারিত দিনের পরিবর্তে পরীক্ষা অন্য তারিখে হবে বলে জানিয়েছেন সেবা কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সমাজ বিজ্ঞান এবং ১ মাৰ্চ অসমিয়া পরীক্ষার জন্য দিন নির্দিষ্ট ছিল। তবে, কবে সেই দু’টি বিষয়ের পরীক্ষা হবে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি সেবা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here