আফগানিস্তানে চিনাসেনার উপস্থিতি: চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মহলে

0
213

বেজিং: রহস্য। আফগানিস্তানের ভিতরে সাম্প্রতিক কালে মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে চিনা সামরিক যান। এদিকে আফগানিস্তানে তাদের সামরিক বাহিনী পাঠানোর কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে চিনা প্রশাসন। অথচ তারা জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে দু’দেশের সামরিক বাহিনী।

পিপলস লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন এই কথা। বলেছেন, “দু’দেশের আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষের আলোচনায় যৌথ অভিযান চলছে সীমান্তে”।

পামির এবং কারাকোরামের মাঝে ওয়াখান করিডোরে চিনা সামরিক যানের ছবি প্রথম প্রকাশিত হয় এক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্য এশিয়ার এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া এক প্রতিবেদনে স্পষ্টই উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে চিন। চিনের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের একাংশও স্বীকার করেছেন এই তথ্য। যদিও আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে অস্বীকার করা হয়েছে তা।

 চিনের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে নিজেদের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি অস্বীকার করা এবং যৌথ অভিযানের কথা মেনে নেওয়া, এই দু’রকম মন্তব্যের ব্যাখ্যাও রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কেউ কেউ বলছেন, হয়তো আফগানিস্তানে তাদের কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নেই, এটাই বলা হয়েছে চিনের পক্ষ থেকে। অথবা সামরিক বাহিনী নয়, সামরিক কায়দায় অভিযান চালাচ্ছে চিনা পুলিশ বাহিনী।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আফগানিস্তানে নিজের জায়গাটা মজবুত করার পেছনে চিনা প্রশাসনের একাধিক কারণ রয়েছে। ইসলামের উগ্রবাদ কীভাবে দমন করা যায়, সেই চিন্তা তো আছেই। কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা, আফগানিস্তান জুড়েই যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে চিনা বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগ মূলত খনি ও হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে। এতদিন মার্কিন সেনা আফগানিস্থানে থাকায় ঘুরপথে সুরক্ষিত থাকতো চিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলিও। কিন্তু ২০১৪ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে আমেরিকা। অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন সেনা থাকবে না আফগানিস্তানে। তাই নিজেদের বিনিয়োগের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নিতে শুরু করেছে চিন। 

আবার যৌথ সামরিক অভিযানের তথ্য যদি সত্যি হয়, তবে তা নতুন কিছু নয়। এর আগেও মাঝে সাঝেই সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক অভিযান চালিয়েছে চিন। মেকং নদির আশেপাশের অঞ্চলে অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য ২০১১-র ডিসেম্বর থেকে চিন, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার যৌথ অভিযান চালিয়েছিল। ড্রাগ পাচারকারী সন্দেহে সেই অভিযানে মেরে ফেলা হয় ১৩জন চিনা ব্যবসায়ীকে। 

সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে চিন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রিউ স্মল বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদ দমন করাই চিনের প্রধান লক্ষ্য। ‘তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টি’ নামের বিচ্ছিন্নতাবাদী এক সংগঠনের ঘাঁটি রয়েছে আফগানিস্তানের বাদাখশান অঞ্চলে। তাদের দিক থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে চিনের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী যতদিন মোতায়েন ছিল আফগানিস্তানে, ততদিন চিনকে মাথা ঘামাতে হয়নি।এখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের সেনা অভিযান চালাতে হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here