পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলেই সরকার বিরোধী হাওয়া, দুই
রাজ্যে আসছে বিজেপি, কংগ্রেসের সম্ভাবনা তিন রাজ্যে

0
272

খবর অনলাইন ডেস্ক : উত্তেজনার অবসান। কিংবা বলা যায় প্রায়-অবসান। কারণ উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাবের ছবিটা স্পষ্ট হলেও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে মণিপুর ও গোয়ায়। তবে সেখানেও একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া দলটি সরকার গঠনের খুব কাছেই রয়েছে। কিন্তু এক বাক্যে যেটা বলে দেওয়া যায়, তা হল ভোটাররা ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তার ফলে চার রাজ্যেই পালটাচ্ছে সরকার, কোনো মতে হয়তো মণিপুরে মসনদ দখলে রাখতে পারবে কংগ্রেস।

নামে পাঁচ রাজ্য হলেও, গোটা দেশের নজর ছিল উত্তরপ্রদেশের দিকে। সেখানে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে বিজেপি-র। ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩২৫টিই এসেছে তাঁদের ঝুলিতে। গত বিধানসভায় তাদের দখলে ছিল মাত্র ৪৭টি আসন। উলটো দিকে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের জোট সাকুল্যে পেয়েছে মাত্র ৫৪টি আসন। যেখানে গত বিধানসভায় দুই দলের মিলিত আসন ছিল ২৫৪। ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছেন বহেনজি মায়াবতী। বহুজন সমাজ পার্টি পেয়েছে মাত্র ১৮টি আসন। গত লোকসভা ভোটের নিরিখে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ৩৩৩টি আসন ছিল বিজেপি-র দখলে। সে দিক থেকে দেখলে তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক প্রায় অক্ষুণ্ণ। কিন্তু সপা-কং জোট হওয়ায় এ বারের নির্বাচন অন্য মাত্রা পেয়েছিল। কিন্তু মানুষ যে সেই জোটকে ভালো ভাবে নেয়নি, ভোটের আগে যাদব পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও যে তাঁদের ভালো লাগেনি, তা ফলেই পরিষ্কার। এ বারের ভোটের ফলের বিশেষত্ব হল, মুসলিম বা দলিতপ্রধান বহু কেন্দ্রও এসেছে বিজেপি-র দখলে। যা দেখে, মায়াবতী বলেছেন, নির্বাচনে রিগিং হয়েছে। দাবি তুলেছেন ব্যালটে ভোট করার। তবে সে আলোচনায় না ঢুকে, সাদা চোখের দেখায় বলাই যায়, বিজেপি-র সাম্প্রদায়িক তাস কাজ করুক বা না করুক, উত্তরপ্রদেশের ভোটাররা কিন্তু মায়াবতী আর যাদবদের দেড় দশক দেখার পরই ফিরিয়ে এনেছেন বিজেপিকে। সে দিক থেকে সরকার-বিরোধী হাওয়া যে কাজ করেছে, তা স্পষ্ট। বিজেপি যতই একে মোদী-ঝড় বলুক।

পাশের রাজ্য উত্তরাখণ্ডের ছবিটাও একই। ২০১২ সালের ভোটে বিজেপির কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল কংগ্রেস। এ বার আবার তা ফিরে যাচ্ছে বিজেপি-র কাছে। গত নির্বাচনেও অবশ্য কংগ্রেসের (৩২) সঙ্গে বিজেপির (৩১) পার্থক্য ছিল মাত্র একটি আসনের। ৭০ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের সাহায্য লেগেছিল মায়াবতী ও উত্তরাখণ্ড ক্রান্তিকারী পার্টির। এ বার বিজেপি-র সে সমস্যা নেই। তারা নিজেরাই পেয়েছে ৫৭টি আসন। তবে গত কয়েক মাসে সে রাজ্যে কংগ্রেস থেকে একদল নেতা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে সেখানে কংগ্রেসের হার এক রকম নিশ্চিতই ছিল।

election_graph

পঞ্জাবে ১১৭টি আসনের মধ্যে ৭৭টিতে জয়ী কংগ্রেস। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ থেকে ১টি আসন কম। টানা দু’দফা ক্ষমতায় থাকার পর এক ধাক্কায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে অকালি-বিজেপি জোট। তাঁদের দখলে ১৮টি আসন। ২০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আপ।

গোয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কংগ্রেস। তবে ৪০ আসনের বিধানসভায় ২০টিই তাদের দখলে এসেছে। বিজেপি ১৩। অন্যরা ৭টি আসনে জিতেছে। ফলে প্রয়োজনীয় ১টি আসন কংগ্রেস দখল করে নেবে এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ বাকি ৭টি আসন বিজেপি জোগাড় করলেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হবে না। গত নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছ থেকে এই রাজ্যটি কেড়ে নিয়েছিল বিজেপি। অতএব এখানেও পাল্টাচ্ছে সরকার।

উত্তরপূর্বে ক্রমেই নিজেদের জমি শক্ত করছে বিজেপি। এর আগে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছে অসম ও অরুণাচল প্রদেশে। মণিপুরে গত বার তাদের কোনো আসন ছিল না। এ বার তারা পেয়েছে ২২টি আসন। অতএব সরকার বিরোধী হাওয়ার তীব্রতা এই ছোটো রাজ্যও স্পষ্ট। যদিও তাতে সরকার বদল হয়তো হবে না। এই নিয়ে টানা চারবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন ওকরাম ইবোবি সিং।  কারণ কংগ্রেস একাই পেয়েছে ২৭টি আসন। ৬০ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে দরকার ৩১। বামেদের ২টি আসন রয়েছে। ৫টি আসন থেকে কমলেও তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে ১টি আসন। অন্যরা জিতেছে ৮টি আসন। অর্থাৎ বাকি ৪টি আসন কংগ্রেস জোগাড় করেই নেবে। এই রাজ্যে ভোটে টাকার প্রভাব নিয়ে নতুন করে চর্চার প্রয়োজন নেই।

সব মিলিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেও বলা যায়, ক্ষমতায় থাকা দু’টি রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়েছে এক রাজ্যে। বিজেপির মতো কংগ্রেসও ক্ষমতায় এসেছে দু’টি রাজ্যে। একটি রাজ্যে তারা কোনো মতে হলেও ক্ষমতা দখলে রাখারই পথে।

ডিমনিটাইজেশনের প্রভাব কি পড়ল পাঁচ রাজ্যের ভোটে? মনে হয় না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here