ভারতে প্রতি মিনিটে দু’জনের প্রাণ নিচ্ছে বায়ুদূষণ, জানাল সমীক্ষা

0
117

নয়াদিল্লি: গত বছর দিওয়ালির সময়ে দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছিল। বায়ুদূষণের থাবা কলকাতার ওপরেও কম কিছু নয়। ইএম বাইপাসে চিংড়িঘাটা থেকে সায়েন্স সিটি, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে বায়ুদূষণ। জ্বালা করছে চোখ, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।  

এই দু’টি ঘটনা কিন্তু আদৌ বিক্ষিপ্ত কোনো ঘটনা নয়। স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ‘দ্য লান্সেট’-এর করা একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে ভারতে ক্রমে ঘোরতর আকার নিচ্ছে বায়ুদূষণ।

জার্নালটি জানিয়েছে, বায়ুদূষণের ফলে ভারতে এক বছরে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। তাঁদের কথায়, “উত্তর ভারতে ধোঁয়াশা, স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক, এর ফলে প্রতি মিনিটে অন্তত দু’জন প্রাণ হারাচ্ছেন।” বিশ্বের সব থেকে দূষিত শহরগুলির মধ্যে অধিকাংশ শহরই অবস্থিত ভারতে, এমনও জানা গিয়েছে সমীক্ষায়।

সমীক্ষার রিপোর্ট এই সপ্তাহে প্রকাশিত হলেও ২০১০-এর তথ্যের ভিত্তিতে এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে। সারা বিশ্বে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম হওয়া এমন ২৭ থেকে ৩৪ লক্ষ শিশু বাতাসে দূষণজনিত ধূলিকণার সংস্পর্শে আসে। শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়াতেই সেই সংখ্যাটি ১৬ লক্ষ।

‘দ্য লান্সেট’ আরও বলেছে যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণ একে অপরের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের এক সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, বায়ুদূষণের ফলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে ভারতে তা প্রায় তিন হাজার আটশো কোটি মার্কিন ডলারের সমান। সারা বিশ্বে ক্ষতির পরিমাণ বাইশ হাজার পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলার। সারা বিশ্বে প্রতিদিন দূষণজনিত কারণে অন্তত আঠারো হাজার মৃত্যু হচ্ছে।

সম্প্রতি অন্য একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে ভারতে সব থেকে দূষিত শহরের মধ্যে প্রথম দু’টি স্থান দখল করে রেখেছে যথাক্রমে দিল্লি এবং পটনা। বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে এখানকার কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকেই দায়ী করেছে জার্নালটি।

সম্প্রতি কেন্দ্রের পরিবেশ বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল মাধব সংসদে জানিয়েছিলেন যে বায়ুদূষণের ওপর নজর রাখার জন্য সারা দেশে বছরে মাত্র সাত কোটি টাকা করে খরচ করা হয়। কিন্তু ভারতের মতো বৃহৎ দেশের পক্ষে সেটা যে খুবই নগন্ন তা বুঝতে বেশি কষ্ট হয় না।

এ ভাবে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে যে বিপদ রয়েছে তা মেনে নিয়েছেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তাঁর কথায়, “শিশুদের পক্ষে বায়ুদূষণ ক্ষতিকর। এটি ‘স্লো পয়সন’ হিসেবে কাজ করে এবং এর ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। এটা ঠেকানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে, যদিও আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here