পয়সা দিয়ে যৌনতা কিনলে এবার কি আইনি শাস্তির কোপ?

0
prostitution

ওয়েবডেস্ক: অর্থের বিনিময়ে যৌন-সংসর্গকে এ বার অপরাধের তালিকাভুক্ত করার প্রয়াস অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের। জানা গিয়েছে, এই মর্মে খুব তাড়াতাড়িই অন্ধ্রপ্রদেশ আইন প্রণয়ন করতে চলেছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসনিক তরফে জানানো হয়েছে যে, যৌনকর্মী এবং তাঁদের পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তিকেই নানা সময়ে পড়তে হয় পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে। কিন্তু তাতেও নারীপাচার চক্রের রমরমা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন ভারতে বেড়েই চলেছে নারীপাচারের ঘটনা। একটি তথ্য পেশ করা হয়েছে এ নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পর্ষদের তরফ থেকে। সেই পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে এই মুহূর্তে যৌনকর্মীর সংখ্যা ২ কোটি্। এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লক্ষ পাচার হয়ে যুক্ত হয়েছেন যৌনব্যবসার সঙ্গে।

এই তথ্য সামনে রেখেই সওয়াল-জবাব করছে অন্ধ্রপ্রদেশ। “খদ্দেররা চাইছে, তাই তাদের চাহিদার জোগান দিতে নারী পাচারের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই আমার মনে হয় ব্যাপারটা রুখতে খদ্দেরদের শাস্তিরও একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত। যারা পয়সা দিয়ে যৌনতা কিনতে অভ্যস্ত, তারা সে ক্ষেত্রে সতর্ক হবে”, দাবি করেছেন রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পর্ষদের প্রধান এইচ অরুণ কুমার।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি, প্রশাসনিক তরফে যুক্ত অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একটি পুরনো ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। রাজ্যে একবার এক মধুচক্রের সঙ্গে জনৈক খদ্দেরকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু ওই ব্যক্তির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে তাঁর মক্কেল যেহেতু পয়সা দিয়েছেন, সেহেতু তাঁর এই কাজকে অপরাধ বলা যায় না। বিচারকও সেই মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষেই রায় দিয়ে তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন। এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে মধুচক্রে উৎসাহ না দেয়, সেই দিক ঠেকাতেই এ বার এই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব।

সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার জন্য আইনজীবীদের একটি বৈঠকও ডাকা হয়েছে ইতিমধ্যেই। জানতে চাওয়া হয়েছে, সংবিধানের দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পয়সা দিয়ে যৌনতা কেনা আইনত বৈধ এবং অবৈধ বলে ঘোষণা করছে। সেই বিচারে নেমে আইনজীবী-দলের সদস্য সুনীতা কৃষ্ণন একটি দিকে আলোকপাত করেছেন। জানিয়েছেন, পয়সা দিয়ে যৌনতা কেনা একমাত্র তখনই বৈধ হতে পারে যদি যৌনকর্মী এই পেশা অনেক দিন ধরে চালিয়ে যান এবং ব্যক্তিটিকেও দেখা যায় তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে।

কৃষ্ণনের এই বক্তব্য যদিও প্রশ্নের পুরোপুরি সদুত্তর দিতে পারছে না, তৈরি করছে ধোঁয়াশা। এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে মধুচক্র পরিচালনা এবং সেখানে পয়সা দিয়ে যৌনতা কেনা এ ক্ষেত্রে আইনত অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে। কিন্তু, পতিতালয়েও অনেককেই জোরজবরদস্তির মুখে অনেক দিন ধরে কাজ করে যেতে হয়। নির্দিষ্ট ক্রেতাও থাকে তাদের ব্যবহারের জন্য। সে ক্ষেত্রে কি কৃষ্ণনের ইঙ্গিত করা আইন সমস্যা সমাধান করতে পারছে? না কি নির্দিষ্ট একটা বয়স ছাড়া রদ করে দেওয়া হচ্ছে যৌনব্যবসায় যোগ দেওয়া?

অন্ধ্রপ্রদেশ প্রসাসন আপাতত এই সব নিয়ে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে ৬০ দিন। তার পরেই এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে দাবি করা হয়েছে!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here