মেয়েরা গাড়ির মতো, রাস্তায় বেরোলেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে: অন্ধ্রপ্রদেশ স্পিকার

0
76

অমরাবতী: মঞ্চটা ছিল ‘জাতীয় মহিলা সংসদ’-এর সাংবাদিক বৈঠকের। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন প্রায় ১০ হাজার মহিলা। তাঁদের কেউ সাংসদ, কেউ বিধায়ক, কেউ বা ব্যবসায়ী। সবাই নিজের জায়গায় বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত। আর এইরকম এক মঞ্চেই অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা স্পিকারের মুখে শোনা গেল চূড়ান্ত ‘নারী-বিদ্বেষী’ কিছু মন্তব্য। গাড়ির সঙ্গে মহিলাদের তুলনা করে স্পিকার শিবপ্রসাদ বলেন, এদের দুটিকেই ঘরের বাইরে বের করলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

স্পিকার বলেন,

quate_f-1যতক্ষণ গ্যারাজে আছে, ততক্ষণই নিরাপদ। রাস্তায় চলতে শুরু করলেই আসে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। বাড়ির মেয়েদেরও তাই। বাজারে গেলে, রাস্তায় বেরিয়ে যতই বেয়াব্রু হতে থাকে, ততই বারতে থাকে অঘটনের সম্ভাবনা। গাড়ি যতক্ষণ কম গতিতে চলছে, কিছুটা হলেও এড়ানো যায় দুর্ঘটনা। গতি বাড়ালেই বাড়ে বিপদ। মহিলারাও যখন শুধুই ঘরের বউ হয়ে ছিল, তখন নিরাপদ ছিল। এখনকার মহিলারা পড়ছে, কাজ করছে, ব্যবসাও করছে। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে মহিলাদের হেনস্থার, ধর্ষণের কিংবা কিডন্যাপের ঝুঁকি।

লিঙ্গ-বিদ্বেষী এই মন্তব্য তাঁকে বিপদে ফেলতে পারে, বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে স্পিকার মশাই ফের বলেন, ‘‘মহিলাদের নিশ্চয়ই শিক্ষিত হওয়া দরকার, কাজ করাও দরকার। মহিলাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা খুব জরুরি। সাহস বাড়াতে আত্মরক্ষার উপায় সম্পর্কে মেয়েদের অবগত হওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে সেই জন্য কুংফু-র প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।’’

মহিলাদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতে শিবপ্রসাদ অবশ্য ্পথপ্রদর্শক নন। লিঙ্গ-বৈষম্য মূলক মন্তব্যের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে রাজনীতিবিদদের একাংশ। বছর কয়েক আগে রাজনীতিক মুলায়ম সিং যাদব ধর্ষণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “পুরুষ তো পুরুষই, ছোটোখাটো ভুলচুক হয়ে যেতেই পারে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এই ব্যাপারে পিছিয়ে নেই।  ‘মহিলা হওয়া সত্ত্বেও’ আতঙ্কবাদের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ন্যুনতম সহনশীলতা না থাকার জন্য  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাহবা দিয়েছিলেন মোদী। এই তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here