ক্ষমা চাইবেন না, ক্ষমতা থাকলে আদালত তাঁকে জেলে পাঠাক, বললেন বিচারপতি কারনান

0
112

নয়াদিল্লি:  আদালত অবমাননার অভিযোগে বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে দিন কয়েক আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল শীর্ষ আদালত। পরোয়ানা অস্বীকার করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনান। শুক্রবার আদালতে উপস্থিত হলেও বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ক্ষমা চাইবেন না। কারনান দাবি করেন, আদালতের কেড়ে নেওয়া বিচারবিভাগীয় এবং প্রশাসনিক কাজ অবিলম্বে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সাত বিচারপতির বেঞ্চ কারনানের দাবি না মানায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কারনান জানান, “এই শেষ বার আদালতে এসছি, ভবিষ্যতে ডাকলে আসব না, আদালতের ক্ষমতা থাকলে আমায় জেলে পাঠাক”।

সি এস কারনান হলেন প্রথম কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি, যাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রয়েছে জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও। 

আরও পড়ুন; ‘স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন’: সাত বিচারপতির থেকে ১৪ কোটি ক্ষতিপূরণ দাবি কারনানের

বিজ্ঞাপন

গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লেখেন কারনান। চিঠির বিষয় ছিল ‘বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি’। সেখানে ২০ জন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বিচারপতির একটি ‘প্রাথমিক তালিকা’-ও দেন তিনি। সেই ২০ জন বিচারপতিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি-সহ বাকি ছ’জন সিনিয়র বিচারপতি, চিঠিতে এই অভিযোগও করেন কারনান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি কে এইচ খেহরের নেতৃত্বে শীর্ষ আদালতের সাত জন সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতির এক বেঞ্চ কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠায়।

শুক্রবার আদালতে কারনান বলেন, “আজ আমি উপস্থিত না থাকলে আমার বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হত। কেন? আমাকে কি জঙ্গি, সমাজবিরোধী অথবা অপরাধী মনে করছে আদালত? আদালতের উচিত আমার সম্মান রক্ষা করা, তার পরিবর্তে আমার ব্যক্তিগত জীবন নষ্ট করা হচ্ছে। শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছি আমি”। আদালতের পক্ষ থেকে মুখ্য বিচারপতি কারনানকে বলেন, “মানসিক ভাবে সুস্থ না থাকলে আপনি চিকিৎসকের সার্টিফিকেট দিন আদালতকে”। আদালত কারনানকে দু’টি বিকল্পের মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে বলে। ২০ জন বিচারকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে অনড় থাকা অথবা অভিযোগ তুলে নিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। এর উত্তরে কারনান জানান, আইনি রাস্তায় তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন, তাই অভিযোগ তুলে নেওয়ার প্রশ্নই আসছে না।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here