নোটবন্দির পর প্রথম বাজেটে গরিবী দূরীকরণে উদার জেটলি, নগদ লেনদেন কমাতে আরও পদক্ষেপ

0
93

নয়াদিল্লি: নোটবন্দির পর প্রথম বাজেট। নোটবন্দির জেরে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকার গরিব মানুষের উন্নয়নে ব্যয় করবে, এমন কথা বারবারই শোনা গেছে সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে। সেই পথে না হেঁটে উপায়ও ছিল না অর্থমন্ত্রীর। কৃষি ও কৃষি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বরাদ্দ করলেন ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। যা গত ২৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে নারেগায় ৪৮হাজার কোটি টাকা।বললেন নোটবন্দির নেতিবাচক প্রভাব কেটে যাবে চলতি বছরেই। 

নগদ অর্থনীতির প্রভাব কমাতে নিলেন বেশি পদক্ষেপ। কোনো রাজনৈতিক দলই ২০০০ বা তার চেয়ে বেশি টাকা চাঁদা নগদে নিতে পারবে না। নিতে হবে চেক বা অনলাইনে। 

৩ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন নগদে করা যাবে না। 

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ দেখাশোনা করত যে সরকারি সংস্থা, সেটিকে তুলে দেওয়া হল। এরপর থেকে অনলাইনে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ যাতে নেওয়া যায়, তার জন্য সরকার নীতি প্রণয়ন করবে বলেও এদিন ঘোষণা করলেন জেটলি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কৃষি ক্ষেত্র ও দারিদ্র দূরীকরণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হল এবারের বাজেটে।   

  • ৫ বছরে কৃষকদের আয় দ্বিগুন হবে, দাবি জেটলির।
  • ১০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে কৃষকদের। গরিব ও প্রান্তিক কৃষকরা সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাবেন।
  • ফসল বিমা যোজনায় ৯হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিমা মোট জমির ৩০ থেকে ৪০শতাংশকে বিমার আওতায় নিয়ে আসবে।
  • চুক্তি চাষের নতুন আইন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
  • দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পে ৮হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • এদিন জেটলি ঘোষণা করেছেন ২০১৯ সালের মধ্যে দেশকে গরিবমুক্ত করা হবে।
  • আগামী ১ বছরের মধ্যে ১ কোটি পরিবারকে দারিদ্র সীমার উপরে তুলে আনা হবে।
  • গত আর্থিক বছরে নারেগার বরাদ্দ সম্পূর্ণ খরচ করা হয়েছে। আগামী অর্থ বর্ষে এই খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৮হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ১০ লক্ষ পুকুর কাটা হবে।
  • প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বরাদ্দ ১৫ হাজার কোটি টাকা  থেকে বাড়িয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। 
  • গ্রামীণ ও কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় জেটলি ঘোষণা করেছেন সরকারের নতুন স্লোগান ‘টেক ইন্ডিয়া’। জেটলির চ্যালেঞ্জ ছিল কর্ম সংস্থান। গ্রামীণ ও কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে, নারেগায় বরাদ্দ বাড়িয়ে সে পথে হাঁটার চেষ্টা করেছেন তিনি। পরিকাঠামো ব্যয়ের খতিয়ানে হু হু করে বেড়েছে শেয়ার বাজার। যদিও বিরোধীরা বলেছেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কোনো সার্বিক লক্ষ্য ফুটে ওঠেনি এবারের বাজেটে। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here