৫০ হাজার দারিদ্রমুক্ত গ্রাম গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অরুণ জেটলি, অত:পর?

0
893
remote rural village in India
jayanta mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

মাঝে মাত্র তিনটে দিন। কেন্দ্র পেশ করতে চলেছে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের বাজেট। গত বছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির মূল বক্তব্য ঠিক কী ছিল, তা স্মরণ করার প্রয়োজন আছে বই-কি। নইলে কী পাওয়ার কথা ছিল, আর কী পাওয়া গেল, তার হিসাব-নিকাশ কী ভাবে কষব আমরা।

একটু পিছনে

২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের দ্বিতীয় এনডিএ সরকারে তৃতীয় বাজেটে ঠিক কী বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তাঁর বাজেট বক্তব্যের শুরুর দিকেই ছিল মহাত্মা গান্ধীর সেই বিখ্যাত উক্তি – আ রাইট কজ নেভার ফেলস্‌। এই শক্তিধর বাক্যকেই পাথেয় করে এগোতে চলেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সারাংশ ছিল, কৃষক, গ্রামীণ জনজীবন, দেশের যুব সম্প্রদায় এবং দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের কথাকে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর বাজেট।

এই অংশের মানুষের জন্য ১০টি ন্যূনতম চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। দারিদ্র মোচনে অন্ত্যোদয় যোজনায় এক কোটি পরিবারকে অন্তুর্ভুক্তকরণের মাধ্যমে ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতকে দারিদ্রমুক্ত করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ওই একই সময়ের মধ্যে এক কোটি গৃহহীনের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া। মূলত কাঁচা বাড়িতে যাঁদের বাস তাঁদের জন্যই পাকা বাড়ি তৈরির জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সব থেকে বড়ো প্রতিশ্রুতি ছিল, ২০১৮-এর ১ মে-র মধ্যে দেশের প্রতিটি বাড়িতে অর্থাৎ ১০০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পেরেছেন জেটলি, তা তিনি নিজে মুখেই জানাবেন আর কয়েকটা দিন পরেই।

এগিয়ে চলুন

২০১৯-এই হতে চলেছে দেশের সাধারণ নির্বাচন। সেই জায়গা এ বারের বাজেটেই দরাজ হতে হবে সরকারকে। এ ছাড়া তার আগেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডে। স্বাভাবিক ভাবেই ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের বাজেট বহুবিধ দিক থেকে ভূমিকা বহুল নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে। যে কারণে তিনি আগেভাগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে তিনি কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন।

কৃষিঋণের জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে ১১ লক্ষ কোটি টাকা করার কথাও শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত আর্থিক বছরে এই পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ কোটি টাকা। যার মধ্যে থেকে বাজেট পেশের ছয় মাসেই ৬.২৫ লক্ষ কোটি টাকা কৃষকের হাতে তুলে দিতে পেরেছেন বলে দাবি করেছিলেন জেটলি।

আরও পড়ুন: টার্গেট পঞ্চায়েত ভোট: কৃষকের মানভঞ্জনে মোদীর ‘বাজেট-টনিক’

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here