এশিয়ার মধ্যে প্রথম আপার আর্ম ডবল হ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেরলে

0
955

কোচি : মেঙ্গালুরুর শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়ার আপার আর্ম ডবল হ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হল। এটাই হল এশিয়ার মধ্যে প্রথম এমন ভাবে হাত প্রতিস্থাপন। এই প্রতিস্থাপন হয়েছে কেরলের কোচির অমৃতা ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এআইএমএস)। এআইএমএস-এর প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনসট্রাক্টিভ ডিপার্টমেন্ট-এর প্রধান ডাঃ সুব্রহ্মণ্যম আইয়ার। তিনি বলেন, শ্রেয়ার হাত প্রতিস্থাপন করতে সময় লেগেছে প্রায় ১৩ ঘণ্টা। ২০ জন সার্জন আর ১৬ জন আন্যাস্থেটিস্টের একটা দল এই অস্ত্রোপচার করেছে। এই নিয়ে এই ধরনের অস্ত্রোপচার গোটা বিশ্বে মাত্র ৯টা হয়েছে। সিনিয়র প্লাস্টিক সার্জন মোহিত শর্মা বলেন, শ্রেয়াকে হাত দান করেছে ২০ বছরের সচিন। হাত প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে বিশ্বে প্রথম এক জন পুরুষ অঙ্গদাতা এক জন মহিলাকে অঙ্গদান করেছে।

সচিন এর্নানাকুলাম রাজাগিরি কলেজের বি কম তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সচিন মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গভীর চোট পায়। তার পর চিকিৎসষ্ঠাপনেরব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন। সচিনের অভিভাবকরা তার হাত আর অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেন।

১৯ বছরের শ্রেয়া মণিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রী। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পুনের বাড়ি থেকে মেঙ্গালুরুর কলেজে ফেরার সময় বাস দুর্ঘটনায় দু’টো হাতই হারায় শ্রেয়া। কনুই থেকে বাদ দিতে হয়।

ডাঃ সুব্রহ্মণ্যম আইয়ার বলেন, এই অস্ত্রোপচার খুবই বড়ো মাপের ছিল। স্নায়ু, শিরা, পেশি, কোষ, লিগামেন্ট ইত্যাদিকে জোড়া লাগানো খুবই সূক্ষ্ম ভাবে করতে হয়। শ্রেয়ার শরীর অন্য একটা অঙ্গকে মানিয়ে নিচ্ছিল। এটাই ছিল ভরসার। ভবিষ্যতেও সুস্থ আর স্বাভাবিক থাকতে শ্রেয়াকে সারা জীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হবে।

ডাঃ মোহিত শর্মা বলেন, এখন শ্রেয়া কবজি কাঁধ নাড়তে পারছে। কিন্তু কনুই নাড়তে একটু সময় লাগবে। অন্তত দু’ সপ্তাহ। এক দেড় বছরে ৮৫% স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

শ্রেয়া বলে, ভারতেও হাত প্রতিস্থাপন করানো যায় জেনে সে অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছিল। সে আশা করছে পরবর্তী দু’ বছরের মধ্যে সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here