কোথাও দু’টি, কোথাও একটি, কোথাও শূন্য, রাজস্থানের উপনির্বাচনে ময়নাতদন্তের পর আরও চাপে বিজেপি

0
2671
Vasundhara Raje and Narendra Modi

জয়পুর: গত সপ্তাহে রাজস্থানের দু’টি লোকসভা এবং একটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের পর মহা বিপদে পড়েছে শাসক বিজেপি। প্রত্যেকটি আসনেই বিজেপিকে হেলায় হারিয়েছে কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল যেমন কংগ্রেসের পালে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে, তেমনই চাপে ফেলে দিয়েছে বিজেপিকে। গদি ধরে রাখা যে কষ্টকর সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছেন বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।

শুধু কংগ্রেসের কাছে হেরে যাওয়াই নয়, বিজেপিকে আরও যে ব্যাপারটা চাপে ফেলেছে সেটা হল হারের ব্যবধান। রাজস্থানের এই তিন আসনের উপনির্বাচনের ফলে ময়নাতদন্ত করেছে বিজেপি। সেখানে এমন ফল এসেছে যা দেখে শাসকদলের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাওয়ার জোগাড়।

আরও পড়ুন রাজস্থানের হার: মোদী-রাজের কপালে চিন্তার ভাঁজ কেন আরও প্রশস্ত করল?

অজমের লোকসভা কেন্দ্রের কথা ধরা যাক। মোট আটটা বিধানসভা আসন নিয়ে গঠিত অজমের লোকসভা আসন। এর মধ্যে সাতটি আসন অজমের জেলায়, একটি জয়পুরে। দেখা যাচ্ছে ওই আটটা আসনের সবক’টাতেই হেরেছে বিজেপি। অজমের কেন্দ্রের নাসিরাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত ২২৩ নম্বর বুথটির ফল পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে সেখানে কংগ্রেস পেয়েছে ৫৮২টা ভোট, অন্য দিকে বিজেপির ভাগ্যে জুটেছে সাকুল্যে একটি ভোট। পাশের ২২৪ নম্বর বুথে বিজেপি পেয়েছে মাত্র দু’টি ভোট কিন্তু কংগ্রেস পেয়েছে পাঁচশো ভোট।

দুদু বিধানসভার ৪৯ নম্বর বুথে তো বিজেপির ভাগ্যে একটা ভোটও পড়েনি। ওখানে কংগ্রেস পেয়েছে ৩৩৭টি ভোট। এর থেকে পরিষ্কার হচ্ছে ওই বুথে বসা বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টও বিজেপিকে ভোট দেয়নি। কোথাও বুথ জ্যাম বা রিগিং-এর অভিযোগ করা যাবে না, কারণ এখানে যে শাসক বিজেপি।

বিজেপিকে চিন্তায় ফেলেছে শহুরে ভোটারদের কংগ্রেসের দিকে চলে যাওয়া। দিল্লিতে বিজেপির এক নেতা বলেন, “অজমের শহরের দু’টো বিধানসভা আসন আমরা হারিয়েছি। ১৯৮৫  এবং ১৯৯৮ ছাড়া এই দু’টো আসন সব সময় আমাদের ছিল। এটা একটা চিন্তার বিষয়।”

উপনির্বাচনে যে ব্যবধানে কংগ্রেস বিজেপিকে হারিয়েছে সেটাও বিশাল চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিজেপির কপালে। অলওয়র লোকসভার অন্তর্গত অলওয়র বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীকে দু’লক্ষ ভোটে পেছনে ফেলে দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। অথচ ২০১৪-এর লোকসভা ভোটের সময়ে এই আসনেই কংগ্রেসের থেকে আড়াই লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। ২০১৪-এর লোকসভা আসনের বিধানসভাভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সে বার রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে এগিয়ে ছিল বিজেপি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছরের শেষে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে যদি গদি ধরে রাখতে হয়, তা হলে নতুন নতুন অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে হবে। উপনির্বাচনে হারের পর রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বদলে ফেলার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু আসল কথা হল, এই রাজ্যে বিজেপির একমাত্র মুখ বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াই। দু’দশক ধরে রাজস্থানের বিজেপিকে টানছেন তিনি। বিজেপিও জানে, নির্বাচনের দশ মাস আগে হঠাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী বদলে দিলে সেটা আদৌ ভালো কিছু হবে না তাদের জন্য।

সেই সঙ্গে একটা মোক্ষম চিন্তা মাথায় ঘুরছে বিজেপি, যেটা কংগ্রেসের পালে আরও একটু হাওয়া জোগাতে বাধ্য। লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই রাজস্থানের নির্বাচন হয়। গত কয়েক বছরের ইতিহাস বলে রাজস্থানের নির্বাচনে যা ফল হয়, লোকসভা নির্বাচনে সেই ফলেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here