পশুবাজারে কসাইখানার জন্য গবাদি পশু বিক্রি বন্ধ করল কেন্দ্র

0

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে পশুবাজারে কসাইখানার জন্য গবাদি পশু বিক্রি বন্ধ করল কেন্দ্র। এই নিয়ে মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পরিবেশ মন্ত্রক। পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইনকে উল্লেখ করে এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশুবাজার থেকে কেবলমাত্র কৃষিকাজের জন্যই গবাদি পশু কেনা-বেচা করা যাবে।

নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কৃষিকাজের জন্য পশু বিক্রিও যথেষ্ট জটিল হয়েছে। লেনদেনের ক্ষেত্রে একাধিক কাগজ থাকতে হবে এবং বিক্রির প্রমাণ হিসাবে পাঁচটি নথি তৈরি করতে হবে। এই নথিগুলি বিভিন্ন দফতরে জমা দিতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ষাঁড়, গরু, মহিষ, বাছুর এমনকি উটও কসাইখানার জন্য পশুবাজারে বিক্রি করা যাবে না। হিন্দুস্তান টাইমস প্রথম এই বিজ্ঞপ্তির খবর দিয়ে জানিয়েছেন, নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কসাইখানা বা তার বিক্রিবাটার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তির ফলে এক লক্ষ কোটি টাকার মাংস শিল্পে ধাক্কা লাগবে। কারণ, এই শিল্পের চাহিদার ৯০শতাংশ আসে পশুবাজারগুলি থেকে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মারা যাবার আগে পরিবেশমন্ত্রী অনিলমাধব দেব এই বিজ্ঞপ্তিতে সাক্ষর করেন। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ মেনে, এই বাজারগুলিতে গবাদি পশুর অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে পরিবেশ মন্ত্রক এই নির্দেশিকা জারি করেছে। পরিবেশমন্ত্রকের ৮ পাতার এই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং রাজ্য সীমান্তের ২৫কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পশুবাজার করা যাবে না। অন্য রাজ্য থেকে পশু আনতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী গবাদি পশুকে ট্রাকে ওঠানো এবং নামানোর সময় যথাযথ যত্ন নেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই করে সার্টিফিকেট দেবেন একজন পশু চিকিৎসক। তিনি বুঝলে কোনো পশুকে বিক্রির জন্য অযোগ্য হিসাবেও চিহ্নিত করতে পারেন।

আগামী তিন মাসের মধ্য এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রের এই নয়া নির্দেশে মাথায় হাত পড়েছে মাংস বিক্রেতাদের। দেশে মাংসের বাজার এক লক্ষ কোটি, এর মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে বিদেশে ২৬,৩০৩ কোটি টাকার মাংস রফতানি হয়েছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাংসের বাজার উত্তরপ্রদেশে। এর পর রয়েছে যথাক্রমে অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলেঙ্গনা। বেশিরভাগ মাংস বাজারগুলি প্রতি সপ্তাহে বসে এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই বাজারগুলি সীমান্ত লাগোয়া। যাতে অন্য রাজ্যের ক্রেতারা আসতে পারেন।

পরিবেশ মন্ত্রকের নির্দেশিকার জন্য ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here