বেতন বাকি থাকায় স্কুলে হেনস্তা, অপমানে আত্মঘাতী কিশোরী

0
320
k sai deepthi

ওয়েবডেস্ক: বেতন বাকি থাকায় স্কুলে নিদারুণ লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে হল। শুধু তা-ই নয়, পরীক্ষায় বসতে দেওয়াও হল না। অপমানে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করে জ্বালা জুড়োল এক কিশোরী। হায়দরাবাদের মালকাজগিরিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতা ওই কিশোরীর নাম কে সাই দীপ্তি। মালকাজগিরির জ্যোতি হাই স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছিল সে। বৃহস্পতিবার ছিল পরীক্ষার তারিখ। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে হাজির হয়ে সে জানতে পারে, তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।

জানা গিয়েছে, অভাবের সংসারে হরেক কষ্টের মধ্যে দিয়েই দীপ্তি তার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। শিক্ষিত হওয়ার অধিকার সে ছাড়তে চায়নি। বাড়ির নানা সমস্যার মধ্যেই সে ঠিক বই-খাতা নিয়ে বসার সময় বের করে নিত। বড়ো দিদিকেও অনুপ্রেরণা দিত তার মতো লেখাপড়ায়।

দিদির দাবি, বৃহস্পতিবার দীপ্তির এই মনোবল ভেঙে গিয়েছিল পুরোপুরি। স্কুল থেকে খুবই বিমর্ষ হয়ে ফিরেছিল দীপ্তি। “যখন জানতে চাইলাম পরীক্ষা কেমন হল, তখন বোন জানিয়েছিল, বেতন বাকি থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ওকে পরীক্ষায় বসতে দেয়নি। যতক্ষণ পরীক্ষা চলছিল, ওকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল ক্লাসের বাইরে। শুধু তা-ই নয়, ওরা ওকে নিয়ে সমানে হাসাহাসিও করেছে, খারাপ খারাপ কথা বলেছে”, জানিয়েছেন দীপ্তির দিদি।

সেই অবসাদের অন্ধকার থেকে নিজেকে আর আলোয় নিয়ে আসার মনোবল জোটাতে পারেনি দীপ্তি। পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারলেও জীবনের খাতায় শেষ কয়েকটা শব্দ মায়ের উদ্দেশে লিখে রেখে আত্মহত্যা করে সে। “ওরা আমায় পরীক্ষার উত্তর লিখতে দিল না, দুঃখিত মা”- এটুকুই শুধু লেখা আছে দীপ্তির সুইসাইড নোটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই আত্মহত্যায় প্ররোচণার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here