বিমুদ্রাকরণের তিন মাসের মধ্যেই জাল হচ্ছে দু’হাজারের নোট,
সন্দেহ আইএসআইকে

0
99

মুর্শিদাবাদ: কালো টাকার পাশাপাশি জাল নোটের রমরমা আটকানোর জন্য বিমুদ্রাকরণের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাজারে এল পাঁচশো আর দু’হাজারের নতুন নোট। জাল নোট আটকানো যাবে ভেবে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অধিকাংশ দেশবাসী। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নতুন নোট বাজারে আসার মাত্র আড়াই-তিন মাসের মধ্যেই তা জাল হয়ে গেল। জাল নোট তৈরির নেপথ্যে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই, তা জেরায় স্বীকার করেছে আটক ব্যক্তি।  

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং বিএসএফের হাতে আটক হয় আজিজুর রহমন। তার কাছ থেকে দু’হাজার টাকার অন্তত ৪০টা জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। এনআইএয়ের জেরায় আজিজুর স্বীকার করেছে, এই নকল নোটগুলো তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। আইএসআইয়ের তত্ত্বাবধানেই তা বানানো হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশে সীমান্ত দিয়ে সেগুলি এ দেশে আসছে। সে জেরায় আরও জানিয়েছে যে, প্রত্যেকটি নকল দু’হাজারের নোটের পেছনে এই নকল নোট চোরাচালানকারীদের খরচ হয় চারশো থেকে ছ’শো টাকা পর্যন্ত।

lineনোট বিশেষজ্ঞদের মতে আসল দু’হাজারের নোটে যে সতেরোটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার এগারোটিকে খুব সফল ভাবে এই নকল নোটে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নকল নোট তৈরিতে যে কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে, আসল নোটের তুলনায় তার মান খারাপ হলেও নকল নোটগুলিকে খুব সহজে ধরা যাবে না বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের মতে, “গত বারের তুলনায় নকল নোটের মান অনেক উন্নত হয়েছে। খালি চোখে দেখাও খুব কষ্টকর। গত মাসে নকল ভারতীয় নোট (এফআইসিএন) চোরাচালানকারীরা খুব স্বল্প পরিমাণে নকল দু’হাজার আর পাঁচশোর নোট ভারতে ঢুকিয়েছিল, মূলত বাজার বোঝার জন্য। আমাদের সন্দেহ, খুব শীঘ্রই ভারতীয় বাজারে ছেয়ে যেতে পারে এই সব নকল নোট।” উল্লেখ্য গত মাসের ২২ তারিখ এবং এই মাসের ৪ তারিখে মালদার কালিয়াচকে নকল নোট সমেত আটক করা হয় পিয়ারুল শেখ আর দিগম্বর মণ্ডলকে।

যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিমুদ্রাকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেই জাল নোট মুক্ত ভারত গড়া যে সত্যিই খুব কষ্টকর, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে মুর্শিদাবাদ আর মালদার এই ঘটনাগুলি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here