২০০৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভারতে দাবানল বেড়েছে ৩৮ শতাংশ: রিপোর্ট

0
2659
forest fire india

ওয়েবডেস্ক: এক দিকে যেমন গত দু’বছরে বনাঞ্চল বাড়ার মতো সুখবর জানা গিয়েছে কেন্দ্রের একটি রিপোর্টে, ঠিক অন্য দিকে ওই রিপোর্টেই এমন একটা তথ্য পাওয়া গেল যা যথেষ্ট উদ্বেগের। রিপোর্টটি হল দাবানলের বিষয়ে। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভারতে দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।

সোমবার প্রকাশিত স্টেট ফরেস্ট রিপোর্ট ২০১৭-এ দেখা যাচ্ছে ২০০৩-এ ভারতে ২৪,৪৫০টি দাবানল হয়েছিল। ২০১৬-তে সেটা বেড়ে হয়েছে ৩৩,৬৬৪। এর পেছনে জঙ্গল কেটে ফেলা যেমন একটা কারণ, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করা হচ্ছে।

বন দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “৯৫ শতাংশ দাবানলই মানুষের জন্য হয়।”

আরও পড়ুন ২০১৫ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে ভারতের বনাঞ্চল বেড়েছে ৬,৭৭৮ বর্গ কিমি: রিপোর্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা গরম হচ্ছে, এর ফলে মাটি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারছে না, তাই দাবানলের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, যে চোদ্দো বছরের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে তার মধ্যে সব থেকে বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ২০০৯-এ (৪৬,১৫২টি)। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ইতিহাসে সব থেকে ভয়াবহ খরা ২০০৯-তেই হয়েছিল। সে বার পূর্ব ভারতের কিছু রাজ্য ছাড়া, ভারতের অধিকাংশ এলাকাতেই বৃষ্টি হয়েছিল অস্বাভাবিক কম।

এই দাবানলের ফলে বাতাসে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। এটাও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গলে সব থেকে বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে এই রিপোর্টে।

তবে এই দাবানল কী ভাবে রোধ করা যায়, সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো নীতি প্রণয়ন করে উঠতে পারেনি কেন্দ্র। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর দাবানলের ফলে গড়ে সাড়ে পাঁচশো কোটি টাকা ক্ষতি হয়। গত বছর আগস্টে জাতীয় পরিবেশ আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিল তিন মাসের মধ্যে দাবানল সংক্রান্ত কোনো জাতীয় নীতি প্রণয়ন করার কথা। কিন্তু সেই দিকেও বিশেষ নজর দেয়নি কেন্দ্র।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here