টাকার অভাব, নেই সঠিক পরিচালন ব্যবস্থাও, যোগীর রাজ্যেই ধুঁকছে গোশালাগুলি

0
140
cow shelter

ওয়েবডেস্ক: আজকের ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে শাসকের খুব কাছের পশু হল গরু। গরু রক্ষার্থে বড়ো বড়ো ঘোষণা করতে পিছপা করতে হয় না তারা। কখনও ঘোষণা করা হয় গরুর অভয়ারণ্য তৈরির কথা তো কখনও বলা ভয় গরু কেন্দ্রিক পর্যটন পরিকল্পনার কথা। কিন্তু এই গরুদের অবস্থা এক বিজেপিশাসিত রাজ্যেই যে কত করুণ, সেই ছবিটা এ বার সামনে এসেছে।

টাকা এবং সঠিক পরিচালন ব্যবস্থার অভাবে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে ধুঁকছে গোশালাগুলি। রাজ্যের সব থেকে বড়ো গোশালা হল, কানপুর গোশালা সোসাইটি। সেখানকার ১,২০০ গরুর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ গরুই অসুস্থ। উল্লেখ্য, গত বছর জুলাইয়ে এই গোশালাই খবরের শিরোনামে এসেছিল। জানা গিয়েছিল, চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে তার আগের পাঁচ মাসে এই গোশালার প্রায় দেড়শো গরুর মৃত্যু হয়েছিল।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, মৃত গরুগুলিকে ভালোভাবে খাবার দেওয়া হয়নি। পেটে যায়নি খাবার জলও। সরকারি টাকা নয়ছয় অভিযোগ উঠেছিল এই গোশালার বিরুদ্ধে।

সেই থেকে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় ছ’টা মাস। কিন্তু এখনও গোশালার ছবিটা বিশেষ বদলায়নি। গোশালার কর্মীদের কথায়, দৈনন্দিন খাবারের অর্ধেক খাবার দেওয়া হয় গরুগুলিকে, ৮ কেজি খড় এবং ১৫ কেজি পশুখাদ্য। এই জন্যই এখনও গোশালার প্রায় চারশো গরু অসুস্থ। পাশাপাশি এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে এই গোশালার সব ক’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই এখনও ফ্রিজ করা হয়েছে।

অর্থের অভাবের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন গোশালার ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরেশ গুপ্তা। তাঁর কথায়, “গোশালার কর্মীরা নিজেদের টাকাতেই যত টুকু সম্ভব গোশালাটিকে চালাচ্ছেন। রাজ্যের বাকি গোশালাগুলির ছবিও বেশ করুণ।” রাজ্যের নথিভুক্ত মোট ৪৯৫টি গোশালাকে নিয়ে তৈরি একটি সংগঠনের সেক্রেটারি গুপ্তা।

তবে বঞ্চনার সব অভিযোগ খণ্ডন করেছে রাজ্য। তাদের দাবি গরুর খাবারের জন্য মাসিক যে অর্থ তারা গোশালাগুলিকে দেয়, সেটা বাড়ানো হয়েছে। পশুসম্পদ দফতরের ডিরেক্টর চরণ সিংহের কথায়, “গোশালাগুলির জন্য সরকার সব সময় অর্থ বরাদ্দ করছে।”

আরও পড়ুন গোমাতাকে জনপ্রিয় করতে গরু কেন্দ্রিক পর্যটন প্রকল্প শুরু গুজরাতে

শুধু কানপুরের ওই গোশালা নয়, গোরক্ষার ছবিটা করুণ লখনউয়ের কানহা উপবনেও। গত বছর অক্টোবরে জানা যায় যে পুষ্টির অভাবে সেখানে মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচশো গরুর। স্থানীয় একটি এনজিও ওই গোশালার দেখভাল করত। গরু-মৃত্যুর খবরের পরে এনজিও-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে গোশালার দখল নেয় লখনউয়ের পৌরনিগম।

রাজ্যের দাবি, বেসরকারি সংস্থার থেকে সরকারি সংস্থা যে গরুদের খেয়াল রাখতে পারে, তার বড়ো উদাহরণ এই কানহা উপবন। তবে এনজিওটির অভিযোগ, সরকার নিজেদের স্বেচ্ছাচারী ভঙ্গিতে ওই গোশালাটির দখল নিয়েছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here