মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে : পন্নিরসেলভম

0
65

চেন্নাই: শেষ পর্যন্ত বোমা ফাটালেন স্বয়ং পন্নিরসেলভম। জানিয়ে দিলেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। “হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আম্মা বলেছিলেন, তাঁর যদি কিছু হয়ে যায় তা হলে আমি যেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করি” – বলেন পন্নিরসেলভম।  তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করা উচিত যিনি আম্মার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেন।

এমজিআর মেমোরিয়ালের বাইরে যেখানে জয়ললিতাকে সমাধি দেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নিরসেলভম  সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষ, দলের বিধায়ক এবং কর্মীরা যদি চান তা হলে তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এআইএডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক ভি কে শশিকলা রবিবার পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর পন্নিরসেলভম মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন।

তিনি যে তাঁর কাজের মধ্যে দিয়ে আম্মার সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন তার প্রমাণ হিসাবে বর্দা ঘূর্ণিঝড় ও ‘অয়েল স্পিল’-এর মোকাবিলা এবং জাল্লিকাট্টুর উপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সরকারের ভূমিকার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বর্দা ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমার সরকার যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল তাতে ওরা (শশিকলা শিবির) বিচলিত হয়ে পড়েছিল।”

পন্নিরসেলভম বলেন, দলের প্রেসিডিয়ামের চেয়ারম্যান ই মধুসূদননকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য জয়ললিতার মৃত্যুর কিছু দিনে আগে আমাকে বলা হয়েছিল। “আমি বিরোধিতা করেছিলাম”। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সি বিজয়ভাস্কর দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে শশিকলার নাম প্রস্তাব করার জন্য আমাকে বলেছিলেন।আমি কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করি।”

পরে দলের বেশ কিছু নেতা, মন্ত্রী শশিকলাকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য দাবি করতে থাকেন। “আমার মনের শান্তি নষ্ট হয়। যাঁদের আমি মন্ত্রী করেছি, তাঁরাই আমাকে বলতে থাকেন অন্য এক জনকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য। এ ভাবে আমার অবমাননা চলতে থাকে। আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম। পরিষদীয় দলের মিটিং ডাকা হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয় এবং ওই মিটিঙে শশিকলাকে দলের নেতা নির্বাচিত করা হল বলে বিধায়কদের সই করতে বলা হয়।”

মেরিনায়  এমজিআর মেমোরিয়ালের কাছে মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ এসে পৌঁছোন পন্নিরসেলভম। জয়ললিতার সমাধিস্থলের সামনে হাঁটু মুড়ে বসেন এবং চোখ বন্ধ করে থাকেন। ৪০ মিনিট তিনি ওই রকম ধ্যানের ভঙ্গিমায় ছিলেন। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা এবং দলীয় কর্মীরা কিছুই বুঝতে পারেননি। পৌনে ১০টার সামান্য আগে সেখান থেকে উঠে সাংবাদিকদের ডেকে কথা বলেন পন্নিরসেলভম।  

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here