রদ হচ্ছে না সিন্ধু চুক্তি, জল ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

0
62

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বাতিল করার পথে হাঁটলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের ওপর কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে, পাকিস্তানের তত্ত্বাবধানে থাকা সিন্ধু, চন্দ্রভাগা আর বিতস্তার জল যতটা সম্ভব ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।  

উরি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। সামরিক আগ্রাসনের পথে না হাঁটলেও ভারত যে পাকিস্তানকে কূটনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করবে তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে ৫৬ বছরের পুরনো সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার নিজের বাসভবনে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নৃপেন্দ্র মিশ্র, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আর বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে সিন্ধু চুক্তি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রক্ত আর জল এক সঙ্গে বইতে পারে না”।

এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় ছয় লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষের কাজে, পাকিস্তানের তত্ত্বাবধানে থাকা নদীগুলির জল ব্যবহার করা হবে। রাজ্যের মানুষের মন জয়ের চেষ্টাতেই মোদী সরকারের এই নতুন ভাবনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রায় এক দশক দীর্ঘ আলোচনার পর বিশ্বব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে ১৯৬০ সালে এই চুক্তি সই হয় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু আর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আয়ুব খানের মধ্যে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের তত্ত্বাবধানে আসে সিন্ধু  উপত্যকার পূর্বে বহমান তিন নদী বিপাশা, শতদ্রু আর চন্দ্রভাগা আর পাকিস্তানের তত্বাবধানে আসে পশ্চিম-বহমান তিন নদী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা আর বিতস্তা। চুক্তির মাধ্যমে এও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সিন্ধু এবং তার পাঁচ’টি শাখা নদীর মোট জলের আশি শতাংশ ব্যবহারের ক্ষমতা পাবে পাকিস্তান আর ভারত পাবে কুড়ি শতাংশ। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে জটিলতা, ১৯৬৫, ১৯৭১ আর ১৯৯৯-এর যুদ্ধও এই চুক্তিতে একটুও দাগ ফেলতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here