সেন্সর বোর্ডের অনুমতি পেল না ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’

0
193

মুম্বই : ভারতে দেখানো যাবে না ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’। সেন্সর বোর্ড (দ্য সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন) এই ছবিকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছে। ২০১৭-এর প্রথম দিকেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল অলংকৃতা শ্রীবাস্তব-এর দ্বিতীয় ছবি ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন প্রকাশ ঝা।

বোর্ড এই বিষয়ে পরিচালকের কাছে একটি চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, গল্পটি মহিলাদের নিয়ে, তাঁদের জীবনের নানা কল্পনা নিয়ে। কিন্তু ছবিতে টানা যৌনদৃশ্য রয়েছে। রয়েছে বেশ কিছু খারাপ শব্দের ব্যবহারও। পাশাপাশি অডিও পর্নোগ্রাফির ব্যবহারও করা হয়েছে ছবিতে। এই সমস্ত কিছু সমাজের বিশেষ কিছু শ্রেণিকে আঘাত করেছে। তা ছাড়াও বহুবার মেয়েদের ওপর হিংস্রতা দেখানো হয়েছে। বোর্ডের মতে, ছবিটি বোর্ডের নির্দেশিকাগুলি অমান্য করেছে। ছবিটি জুড়ে রয়েছে ভ্রষ্টাচার, অশ্লীলতা, মেয়েদের অধঃপতনের চিত্র। ছবিতে মেয়েদের কলুষিত, অপমানিত করা হয়েছে। এই কারণেই ছবিটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পঙ্কজ নিহালনি বলেছেন, “এটা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এই ছবিকে কখনোই অনুমতি দেওয়া হবে না।” 

chobi

লিঙ্গ-সাম্যের গল্প বলা হয়েছে ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’য়। এখনে নানা বয়সের চার জন মেয়ের কথা বলা হয়েছে। যাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দা। এঁরা মেয়েদের প্রতি সমাজের বৈষম্য ভাঙতে চেয়েছেন। দূর করতে চেয়েছেন মেয়েদের প্রতি নানা বিধিনিষেধের বেড়াজাল।

দেশে নিষিদ্ধ হলেও ইতিমধ্যেই ছবিটি টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পিরিট অব এশিয়া’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। লিঙ্গ-সাম্যের গল্প বলার জন্য মুম্বই চলচ্চিত্র উৎসবে অক্সফ্যাম অ্যাওয়ার্ডও জিতেছে। 

এই নিষিদ্ধকরণের প্রেক্ষিতে অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব জানান, এই ছবিটি নিষিদ্ধ করা মানে, মেয়েদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। তাঁদের কথা বলার, তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করার যে অধিকার রয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করা। ছবিটি যাতে মুক্তি পায় তার জন্য লড়াই করবেন তিনি। দেশের সকল দর্শকের কাছে এ ছবি দেখার মতো – এটা প্রমাণ করার জন্য যা কিছু করতে হয় সবই করবেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ, বলেন অলংকৃতা। তিনি বলেন, ভারত এমন একটি দেশ যেখানে এমন বহু হিংস্রতার ঘটনা ঘটে চলেছে।

এই মুহূর্তে প্রযোজক ঝায়ের কাছে একটা পথ খোলা আছে। তিনি ফ্লিম সার্টিফিকেশন অ্যাফিলেট ট্রাইবুনাল (এফসিএটি)-র কাছে আবেদন জানাতে পারেন। সেখান থেকে অনুমতি পেলে ছবিটি দেখানো সম্ভব হবে। এর আগে ঝায়ের ছবি ‘জয় গঙ্গাজল’ও প্রথমে সেন্সর বোর্ডের অনুমতি পায়নি। পরে এফসিএটি অনুমতি দিয়েছিল। স্টকহোলম থেকে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্লাসগো চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হবে ছবিটি। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here