মোষের দৌড় ‘কামবালা’ আইনসম্মত করতে বিল পাশ কর্নাটকে

0
80

কর্নাটক :  ‘কামবালা’ তথা মোষের দৌড় প্রতিযোগিতা আইনসম্মত করতে সর্বসম্মতিতে  বিল পাশ হয়ে গেল কর্নাটক বিধানসভায়। সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তামিলনাড়ুর বিধানসভায় ‘জল্লিকাট্টু’ নিয়ে বিল পাশ হওয়ার পরই এ বার ‘কামবালা’ নিয়ে সোমবার এই বিল পাশ করল কর্নাটক বিধানসভা। এই বিলের মাধ্যমে কর্নাটকে ১৯৬০ সালের ‘পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ বিল’-এর সংশোধন করা হল।   

 

বিলে বলা হয়েছে, ‘কামবালা’ রাজ্যের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খেলা, যা এই রাজ্যের সংস্কৃতির পরিচায়ক। একে সংরক্ষণ করা উচিত। এই বিষয়ে বিরোধীপক্ষের মতও ছিল ইতিবাচক। তারাও এই বিলকে সমর্থন করবেন বলে বিরোধী দলনেতা জগদীশ শেট্টার আগেই জানিয়েছিলেন। 

প্রসঙ্গত, এই খেলা বন্ধ করার জন্য পেটা (পিপল ফর এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট ফর অ্যানিম্যাল)  যে আবেদন করেছিল, তার ভিত্তিতে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কর্নাটক  হাইকোর্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে ‘কামবালা’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যবাসী এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে বিল পাশ করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। বিশেষত, উপকূলবর্তী এলাকায়, যেখানে এই খেলা সব থেকে বেশি জনপ্রিয় সেখানকার বাসিন্দারা এই খেলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। জল্লিকাট্টু নিয়ে তামিলনাড়ুর বিক্ষোভ এই দাবিতে বেশ কিছুটা ইন্ধন জোগায়। 

‘কামবালা’ কী?

দক্ষিণ কর্ণাটক ও কর্ণাটকের উপকূলবর্তী এলাকা যেমন উদুপি জেলায় প্রায় ৮০০ বছর ধরে চলে আসছে মোষদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা।

kambala-1

এই খেলার সময় একটা লাঙল এক জোড়া মোষের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়।

kambala-2

এই অবস্থায় ওই দু’টি মোষকে ভিজে রাস্তা বা জল জমা পথের ওপর দিয়ে দৌড়তে হয়। মোষ দু’টির সঙ্গে এই সময় থাকেন এক জন সওয়ারও। অনেকগুলি দল এক সঙ্গে এই দৌড়ে নামে। যে দলটি জেতে, আগে তাদের প্রচুর নারকেল পুরস্কার দেওয়া হত। এখন সোনার মেডেল বা ট্রফি দেওয়া হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে  ‘কামবালা’-র আয়োজন করা হয়। 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here