উরিতে হত ১৮ সেনার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বললেন ৮৭-র লতা

0
82

‘যো শহিদ হুয়ে হ্যায় উনকি জারা ইয়াদ করো কুরবানি’- মেলোডি কুইন লতা মঙ্গেশকর তাঁর ৮৭তম জন্মদিনে এই বার্তাই দিলেন তাঁর সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষীর উদ্দেশে। তাঁর জন্মদিনে কোনো আনন্দ উৎসব নয়, ফুল পাঠানো বা উপহার পাঠানোও নয়। বরং সেই টাকা ১৮ সেপ্টেম্বর ‘উরি’তে নিহত ১৮ জন সৈন্যের পরিবারের হাতে তুলে দিতে অনুরোধ করলেন লতা।

লতাজি মনে করেন, প্রকৃতি আর মানুষ, কাউকেই ঠিক বোঝা যায় না। প্রকৃতি যেমন হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে উঠে মানুষের ক্ষতির কারণ হচ্ছে,  তেমনি মানুষও। যুদ্ধ আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ছোটোরা খুবই কষ্ট পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ড সব থেকে শান্তিপ্রিয় দেশ। সুইসরা কোনো খারাপ কাজ করেছেন, এমন কখনও শোনা যায় না। কারণ তাঁরা অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে যান না। নিজেদের উন্নতি কীভাবে করা যায় তাই নিয়েই মেতে থাকেন।

তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশে জানান, খুশি আর শান্তিতে থেকে আমাদেরও খুশি আর শান্তিতে থাকতে দাও। ওখানের নাগরিকরা আমাদেরই মতো। তাঁরাও যুদ্ধ চান না।

৮৭-র এভারগ্রিন লতাদিদির স্কুলের পাঠ নেওয়া হয়নি। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর মনে করতেন সংস্কৃত শিখলে যে কোনো ভাষা শেখা কোনো ব্যাপার নয়। সেইমতো তিনি সংস্কৃতের পাঠ নেন। ১৯৪৩-এ মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে গানকে পেশা করে নেন। তাঁর গাওয়া প্রথম গান মরাঠিতে ‘নাচুরা গাদে খেলু সারি মানি হাউস ভারি’। প্রথম বড় সাফল্য আসে ‘মজবুর’ ছবিতে গুলাম হায়দারের ‘দিল মেরা তোরা’ গানটির হাত ধরে। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ‘ভারতরত্ন’ এই কিংবদন্তি গায়িকাকে। বহু ভাষার প্রচুর গানে তাঁর ডালা ভরা, একথা বলাই বাহুল্য। এখন অবশ্য তিনি আধ্যাত্মিক গানের প্রতি বেশি আগ্রহী। তবে লতাদিদির বড় আক্ষেপ, গায়িকা হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী হিসেবে স্টেজে বসে গান গাওয়ার সুযোগ জীবনে আর কখনোই আসেনি। যদিও তিনি বিশ্বাস করেন ‘এক জীবনে সব কিছু পাওয়া যায় না’।

পুরোনো দিনের কথায় তাঁর মনে পড়ে, বাবা মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলতেন, মা আর তিনি দু’জনেই দারুণ ক্রিকেটভক্ত ছিলেন। কখনও কখনও তো খেলা দেখার জন্য রেকর্ডিংও ৫ দিন পিছিয়ে দিতেন।

আজকালকার গানে আগেকার সেই কবিতা, সুর তিনি খুঁজে পান না। পাশ্চাত্য প্রভাব খুব বেশি। 

লতাজির কলকাতা খুব প্রিয়। এখানকার শাড়ি, খাবার, মানুষ সব কিছু। তবে সব থেকে প্রিয় বাংলা ভাষা। তিনি খুবই খুশি যে বাংলায় বহু কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি অবশ্য ‘বায়ো পিক’-এ মোটেই আগ্রহী নন। তিনি বলেন, জীবনে শুধু ভালো মানুষদের সঙ্গে পরিচয় হয় না। কিছু খারাপ মানুষও থাকে। আর বায়োপিকে তাঁদের সকলের কথাই উঠে আসবে। কিন্তু তাঁদের অনেকেই হয়তো আর নেই। তাও তাঁদের নিয়ে টানাটানি করে, কাদা ছিটিয়ে কি লাভ?

লতা মঙ্গেশকর ‘ভারতরত্ন’ পেয়েছেন ২০০১ সালে। ২০১৬-তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁর কাছে গিয়ে ‘বঙ্গবিভূষণ’ উপাধি দিয়েছেন। কিংবদন্তি গায়িকা বলেন, এর থেকে বড় জন্মদিনের উপহার আর কী হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here