ঋণের কিস্তি না দেওয়ার ‘শাস্তি’, উত্তরপ্রদেশে কৃষককে ট্র্যাক্টরে পিষে মারল ঋণ আদায়কারীরা

0
473
loan recovery agents crush farmer

সীতাপুর (উত্তরপ্রদেশ): তাঁর অপরাধ ছিল একটি আর্থিক সংস্থার থেকে টাকা ধার নিলেও সেই টাকার পুরোটা ফেরত দিতে পারেননি। সেই জন্য তাঁকে ট্র্যাক্টরের তলায় মিশে মারল ঋণ আদায়কারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে।

পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, ট্র্যাক্টর কিনবেন বলে ২০১৫ সালে একটি আর্থিক সংস্থার থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সীতাপুরের ভউরি গ্রামের জনৈক কৃষক জ্ঞান চন্দ্র। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে চার লক্ষ টাকা তিনি শোধ করে দিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বাকি টাকাও খুব দ্রুতই তিনি শোধ করে দেবেন।

তাঁর স্ত্রী জ্ঞানবতী জানান, এই বছরের গোড়ায় আরও ৩৫ হাজার টাকার ঋণ ফেরত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আর্থিক সংস্থা তাতে খুশি হয়নি। বাকি ৬৫ হাজার টাকা ফেরত নিতে শনিবার তাঁদের বাড়িতে আসে পাঁচ ঋণ আদায়কারী।

জ্ঞানচন্দ্রের ভাই ওম প্রকাশের কথায়, ঋণ আদায়কারীরা তাঁদের বাড়িতে এলে তাঁরা জানান, যে জ্ঞানচন্দ্র স্থানীয় এক পঞ্চায়েত নেতার মাঠে তাঁর ট্র্যাক্টর নিয়ে চাষ করছেন। এই কথা শুনে সেই মাঠে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন আদায়কারীরা। তারা জ্ঞানচন্দ্রকে  ঋণের বাকি টাকা অবিলম্বে শোধ করতে বলে। না করলে ট্র্যাক্টর ফেরত নিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। যদিও আদায়কারীদের কাছে জ্ঞানচন্দ্র বারবার কাকুতিমিনতি করতে থাকেন এই বলে যে তিনি এই মাসের শেষেই বাকি ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে দেবেন।

কিন্তু এতেও ঘাতকদের মন গলেনি। তারা জ্ঞানচন্দ্রের হাত থেকে ট্র্যাক্টরের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে সেটি স্টার্ট দেয়। ট্র্যাক্টরের বনেট ধরে ছিলেন জ্ঞানচন্দ্র কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর চালাতে শুরু করে আদায়কারীরা। এরই মধ্যে হঠাৎ জ্ঞানচন্দ্রের হাত ফসকে যায়। তিনি ট্র্যাক্টরের চাকার সামনে পড়ে যান। তাঁকে পিষে দিয়ে ট্র্যাক্টর নিয়ে পালায় ওই পাঁচ আদায়কারী।

এই খুনের প্রতিবাদের অনেকক্ষণ অবরোধ-বিক্ষোভে সামিল হল গ্রামবাসীরা। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর জন্য পুলিশকেও বাধা দেন তাঁরা। ঘাতকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারদের এই আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ তুলে নেন গ্রামবাসীরা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here