ভুল সংশোধন থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য লক করে রাখা, নিজেই করুন এমআধার অ্যাপে

0
mAadhaar

ওয়েবডেস্ক: আধার নিয়ে বিতর্কের রেশ আর কাটতেই চাইছে না। এক দিকে দেশের শীর্ষ আদালত আধার কার্ডের ব্যবহার বাধ্যতামূলক কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কোনো রায় দিচ্ছে না। অন্য দিকে অভিযোগ উঠছে, আধার কার্ডের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে জনতার বায়োমেট্রিক তথ্য!

এই দোটানার মাঝেই সম্প্রতি সরকার থেকে নিয়ে আসা হল এমআধার! এম অর্থাৎ মোবাইলের আদ্যক্ষর। মানে, এ আর কিছুই নয়, আধার সম্পর্কিত এক নয়া অ্যাপ মাত্র।

তা বলে এমআধার-কে হেলাফেলা করা চলবে না। কেন, এক এক করে দেখে নেওয়া যাক সেগুলো!

বিজ্ঞাপন

১. আধার হারানোর ভয় নেই

বুঝতেই পারছেন, এমআধার ফোনে ডাউনলোড করা থাকলে আর আধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন হবে না। কেন না, আপনি আধার কার্ড করানোর সময়ে যা যা তথ্য দিয়েছেন, বায়োমেট্রিক-সহ তার সব ক’টাই থাকবে এই এমআধার-এ। ফলে, এমআধার যে ডিজিটাল কার্ড ভার্সনটি দেখাবে, সেটাই যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করা যাবে। স্রেফ একটা বোতাম টিপেই দরকারমতো যে কোনো জায়গায় লিংক করিয়ে নেওয়া যাবে আধারের তথ্য। আর সঙ্গে করে কার্ড নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে না বলে সেটা হারিয়ে যাওয়ার ভয় যেমন নেই, তেমনই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে না!

২. বায়োমেট্রিক তথ্য লক করার সুবিধা

অভিযোগ উঠছে, নানা সংস্থা মারফত ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে জনতার বায়োমেট্রিক তথ্য। মূলত সেই দিকে লক্ষ রেখেই এমআধার-এ যোগ করা হয়েছে এক বিশেষ ফিচার, যার মাধ্যমে চাইলে আপনি বায়োমেট্রিক তথ্য লক করে রাখতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনি না চাইলে সেই তথ্য আর কারও হাতে পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রয়োজন বা মর্জিমতো তা আবার আনলকও করে নেওয়া যাবে!

৩. কম সময়সাপেক্ষ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড

লক্ষ করে দেখেছেন নিশ্চয়ই, সরকারি ওয়েবসাইট থেকে আধার কার্ড ডাউনলোড করতে হলে একটা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড দরকার হয়। যা জানানো হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এসএমএস-এর মাধ্যমে। এই ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড জেনারেট হওয়ার পর থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ, জেনে ফেললে যে কেউ এই ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড নির্ধারিত ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। কিন্তু, এমআধার চালু করেছে আরও কম সময় সাপেক্ষ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড। যা অ্যাপ মারফত মিলবে। সে ক্ষেত্রে তা অন্যের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে!

৪. প্রোফাইল আপডেট

নামের বানান ভুল আসা বা ঠিকানা বদলে যাওয়া বা লিঙ্গ-সংক্রান্ত তথ্যে ভুল থাকা – এ সব আখছার চোখে পড়ে আধার কার্ডে। আর তার পর তা ঠিক করতে জনতার বিভ্রান্তির একশেষ হয়! ফর্ম ভর্তি করা, লাইনে দাঁড়ানো, নতুন করে পুরো পদ্ধতিটা সম্পন্ন করা – ঝক্কির আর শেষ থাকে না। পাশাপাশি রয়েছে অর্থদণ্ডের ব্যাপারটাও! কিন্তু এমআধার মারফত এ জাতীয় ভুল নিজেই সংশোধন করে নেওয়া যাবে।

এর পর জানানোর মতো বাকি থাকে কেবল দু’টো তথ্য। এক, এখনও পর্যন্ত এমআধার অ্যানড্রয়েড ছাড়া অন্য ফোনে ডাউনলোড করা যাবে না। দুই, আপনার মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে লিংক করা না থাকলে এমআধার ডাউনলোড হবে না। এই দুই ব্যাপার খেয়াল রেখে এ বার না হয় আধার-এর রাশ রাখুন নিজের হাতেই!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here