যে সব ডাক্তার বিনা কারণে সিজার করেন, তাঁদের নিয়ে কুৎসা করা উচিত: মানেকা গান্ধী

0
106

নয়াদিল্লি: যে সব চিকিৎসক চিকিৎসাশাস্ত্র-সম্মত কোনো কারণ ছাড়াই অন্ত‌ঃসত্ত্বা মহিলাদের প্রসবের জন্য সিজার করেন, তাঁদের নামে ‘খোলাখুলি কুৎসা’ করা দরকার বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী। এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে চিঠিও লিখেছেন।

মানেকা তাঁর চিঠিতে নাড্ডাকে বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রক এমন ব্যবস্থা নিক, যাতে সমস্ত হাসপাতাল ও নার্সিংহোম, কত জন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করছেন, তা প্রকাশ্যে জানাতে বাধ্য হয়। change.org-র একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি লিখেছেন মানেকা। ওই আবেদনে এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ সই করেছেন। ওই আবেদনের বক্তব্য ছিল, হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা লাভের জন্য মহিলাদের স্বাভাবিক প্রসবের বদলে সিজার বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের দিকে ঠেলে দেয়। মানেকা চিঠিতে লিখেছেন, “সম্ভবত নানা দিক থেকে আমাদের এই সমস্যাকে আক্রমণ করতে হবে। একটা পদ্ধতি এটা হতে পারে, এক মাসে কোনো প্রতিষ্ঠানে কতগুলি সিজার ও কতগুলি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে, তা সেই প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে জানাতে বাধ্য থাকবে”।


২০১৫-১৬ সালের জাতীয় পরিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সিজারের মাধ্যমে মোট প্রসবের পরিমাণ ৭০.৯%।


বুধবার সাংবাদিকদের মানেকা বলেন, “যে সব স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কেবলমাত্র টাকার জন্য সিজার করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে খোলাখুলি কুৎসা চালানো উচিত। ভারতের সব মহিলার একজোট হয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ স্বাভাবিক প্রসবের বদলে অকারণ এই অস্ত্রোপচার তাঁদের ক্ষতি করে।”

change.org-র আবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলি যদি তাদের প্রতিষ্ঠানে কতগুলি সিজার ও কতগুলি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে, তা প্রকাশ্য জানাতে বাধ্য হয়, তা হলে মহিলারা কোন হাসপাতালে প্রসব করবেন, সে বিষয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

“অস্বাভাবিক রকমের বেশি পরিমাণ সিজারের হার নিয়ে তদন্তের” দাবি করা হয়েছে ওই আবেদনে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে “মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য সিজারের ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশিকা” তৈরিরও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো একটি দেশে মোট যত সন্তান প্রসব হয়, তার ১০-১৫% অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

২০১৫-১৬ সালের জাতীয় পরিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুসারে, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র মিলিয়ে তেলঙ্গানায় সিজারের সংখ্যা ৫৮%  এবং তামিলনাডুতে ৩৪.১%।

পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সিজারের মাধ্যমে মোট প্রসবের পরিমাণ ৭০.৯% এবং তেলঙ্গানায় ৭৪.৯%।

 

 

 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here