রাজনীতি নয়, মণিপুরের কল্যাণে কাজ করবেন পরাজিত শর্মিলা

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি এ ভাবে খড়কুটোর মতো ভেসে যাবেন কল্পনাই করতে পারেননি ইরম শর্মিলা চানু। তাই রাজনীতির ময়দান থেকে একেবারে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে যাবেন। আর রাজনীতি নয়। শোচনীয় ভরাডুবির পর এ ভাবেই তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলে শর্মিলা বলেন, “মণিপুরের জনসাধারণ আমার সিদ্ধান্ত বুঝতে পারেননি। আমি তিনি কী চান তা নতুন প্রজন্মকে বোঝতে আরও সমষ় লাগবে।” তাঁর কাছে বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে কোনও ফারাক নেই, সব এক। তবে মণিপুরের কল্যাণে কাজ তিনি করে যাবেন বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান ইরম। মণিপুরের সমস্যা তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবেন বলেও জানান।

৬০ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি অভাবনীয় ফল করেছে। ২২টি আসন পেয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ভোটের হারে তারা কংগ্রেসকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পেয়েছে ৩৬.২%। ও দিকে কংগ্রেস ২৭টি আসনে জিতলেও ভোট পেয়েছে ৩৫%। ২টি বাম, ১টি  তৃণমূল কংগ্রেস এবং ৮টি পেয়েছে অন্যরা।

মণিপুর থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন, সংক্ষেপে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে টানা ১৬ বছর অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর তা ভেঙে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন ইরম। রাজনীতির ময়দানে আনকোরা ইরম রাজনৈতিক কাজকর্ম কী ভাবে চালাতে হয় তার পাঠ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছেও গিয়েছিলেন। অবশেষে কেজরিওয়ালের পরামর্শে গত বছর ১৮ অক্টোবর মণিপুরে নতুন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গড়েন লৌহমানবী। নবজাতক দলের নাম দেন পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।

বিজ্ঞাপন

মণিপুরের একাদশ বিধানসভা নিৰ্বাচনে তিনি এগারো আসনে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন। ইরম শৰ্মিলা খুরাই কেন্দ্রের ভোটার হলেও থউবাল আসনে মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিংহের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। কিন্তু মাত্র ৯০টি ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর দলের সব প্রার্থীই গোহারা হেরেছেন।

জীবিতকালেই কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত মণিপুরের ‘লৌহমানবী’ ইরম শৰ্মিলা গত বছরের ৯ আগস্ট তাঁর ১৬ বছরের অনশন ভঙ্গ করেছিলেন। ১৬ বছর আগে ২০০২ সালে আধাসামরিক বাহিনীর গুলিতে দশ জন নিরীহ মণিপুরির মৃত্যুর পর মণিপুর থেকে সশস্ত্র সেনাবাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন (আফস্পা) প্ৰত্যাহারের দাবিতে তিনি অনশন শুরু করেছিলেন।

অনশন শুরু করার তিনদিন পর মণিপুর সরকার আত্মহত্যার প্ৰচেষ্টা চালানোর অভিযোগে ইরমকে গ্ৰেফতার করেছিল। অবশ্য কারাগারে বন্দিদশায়ও তিনি তাঁর অনশন কর্মসূচি বজায় রেখেছিলেন। সেই তখন থেকে ইরম শৰ্মিলার নাক দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানীয় খাদ্য দেওয়া হচ্ছিল।

এর পর নিজের দৃঢ় স্থিতির জন্যই তাঁকে ‘লৌহমানবী’ আখ্যা দেওয়া হয়। অনশন ভেঙে বলেছিলেন, মহাত্মা গান্ধীর আদৰ্শ ও সিদ্ধান্ত তাঁকে অনুপ্ৰাণিত করে। সমাজ থেকে হিংসা, কলুষ দূর করার সংকল্প নিয়েই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করবেন।

আশা করা হচ্ছিল, পিপলস রিসার্জেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স (প্রজা) প্রার্থী ৪৪ বছরের ইরম শর্মিলা চানু এ বারের ভোটে ক্যারিসমা দেখাবেন। তাই স্বাভাবিক ভাবে থউবাল কেন্দ্রে হেভিওয়েট প্রার্থী কংগ্রেস তথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী পোড়খাওয়া রাজনীতিক ৬৮ বছরের ওখরাম ইবোবি সিংহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে দাঁড়ানোয় এই কেন্দ্রের দিকে নজর ছিল সকলের। তিনি এবং তাঁর দল যে প্রতিটি আসনে বিজয়ী হবে তাতে কোনো সংশয় নেই বলে আত্মপ্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছিলেন শর্মিলা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here