ছেলে-মেয়ের স্কুলে যাওয়ার জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা বানালেন বাবা, দেখুন ভিডিওয়

0
221
jalandhar nayak

ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার কন্ধমল জেলার অখ্যাত এক গ্রাম গুমশাহি। এমন কত গ্রামই তো এ দেশের আনাচে-কানাচে পড়ে রয়েছে, কে বা তার খোঁজ রাখে! কিন্তু গুমশাহির ছবিটা আরেকটু আলাদা। পাহাড় এই গ্রামকে কাছের শহর ফুলবনির থেকে আলাদা করে রাখায় সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন শহরে। যাননি শুধু জলন্ধর নায়েক। যোগাযোগ ব্যবস্থা যতই প্রতিকূল হোক, পাকা রাস্তা থাক বা না থাক, ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে তাঁর মন চায়নি। কিন্তু তা বলে সমস্যারা তো আর থেমে থাকে না। গুটি গুটি পায়ে ঠিকই এসে জাঁকিয়ে বসে।

জলন্ধরও সেই সমস্যা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারলেন তখনই, যখন রাস্তা বলে কিছু না থাকায় ছেলে-মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হল। ছোটো সন্তানদের পক্ষে কী আর পাহাড় ডিঙিয়ে নিত্য নৈমিত্তিক ভাবে ঠিক সময়ে স্কুলে হাজিরা দেওয়া সম্ভব! তবে, ছেলে-মেয়ে ভেঙে পড়লেও জলন্ধর ভেঙে পড়েননি। বরং, পাহাড়কেই ভেঙে পথ বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। সে আজ থেকে বছর দুই আগের কথা।

jalandhar nayak

এর পর বাকিটুকু শুধু দিনে একটানা ৮ ঘণ্টা করে পরিশ্রমের ইতিহাস। ছেনি, হাতুড়ি, কোদালের আঘাতে জঙ্গুলে লতা-পাতা সরিয়ে, পাহাড়ের পাথর কেটে পথ বের করে আনার গাথা। এ ভাবেই ২ বছরে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করে ফেলেছেন নায়েক। ছেলে-মেয়েকে পড়ানোর স্বপ্ন যেমন তাঁর পূরণ হয়েছে, তেমনই পূরণ হয়েছে সন্তানদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও। তবে, তাতেই থেমে থাকছেন না নায়েক। ইচ্ছা, পথটা আরও ৭ কিলোমিটার লম্বা করবেন তিনি।

ওড়িশার একটি দৈনিকে নায়েকের এই সাফল্যের কথা প্রকাশিত হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে চার দিকে। অনেকেই তাঁকে তুলনা করছেন বিহারের দশরথ মানঝির সঙ্গে। মানঝিকে যেমন বলা হয় ‘মাউন্টেন ম্যান’, তেমনই নায়েককেও বলা হচ্ছে ‘মাউন্টেন ম্যান অব ওড়িশা’। তবে এ সব খেতাবে কোনো আগ্রহ নেই তাঁর। স্বাভাবিক, যাঁরা লড়াইটা একাই শেষ করেন, পরিণামে প্রশংসায় তাঁদের কিছুই যায়-আসে না।

তবে, নায়েকের তরফে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা না গেলেও ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো মুগ্ধ এলাকার কালেক্টর। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, এই কাজকে এমজিএনআরইজিএস (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে এই ২ বছরে দিন পিছু কাজের পারিশ্রমিকটুকু অন্তত নায়েক পান! পাশাপাশি, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারকেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, বাকি পথটুকু তৈরি করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নায়েকের তৈরি রাস্তাটা পাকা করে দেওয়ার!

আশা করাই যায়, এ বার হয়তো গুমশাহি পাহাড়ের বুক চিরে যাওয়া পথের কল্যাণে হারানো বাসিন্দাদের ফিরে পাবে!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here