প্রয়াত কর্ণধার কপিল মোহন, ওল্ড মঙ্ক কি তা হলে উঠে যাওয়ার মুখে?

0
953
old monk

ওয়েবডেস্ক: তুখোড় শীতকে যাঁর সংস্থার পানীয়ের সৌজন্যে এত দিন দুয়ো দিয়ে এসেছে ভারতবাসী, সেই ওল্ড মঙ্ক সংস্থার কর্ণধার কপিল মোহন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন এই মরশুমেই। সঙ্গে সঙ্গে উঠে এল সেই অবধারিত প্রশ্নটি – এ বার কি ওল্ড মঙ্ক রাম-লীলাও তা হলে এসে দাঁড়াল সমাপ্তির দোরগোড়ায়?

জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী খেতাবগ্রহীতা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার কপিল মোহন ৬ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন গাজিয়াবাদের মোহন নগরের পৈতৃক ভবনে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। সন্তানহীন মোহন সংসারে রেখে গিয়েছেন স্ত্রী পুষ্পা আর ওল্ড মঙ্কের ঐতিহ্যকে।

তবে সেই ঐতিহ্য স্মৃতির সরণিতে ফিকে হয়ে আসবে কি না, এই প্রশ্নটাই এখন ভাবিয়ে তুলেছে দেশকে। কেন না অনেক দিন ধরেই নানা সমীক্ষা বলছিল, কমে এসেছে ভারতের জনপ্রিয় এই রামের বিক্রিবাটা। তা যে খুব একটা মিথ্যেও নয়, সদ্য প্রয়াত কপিল মোহনের নানা ব্যবসার উদ্যোগই ছিল তার চাক্ষুষ প্রমাণ।

১৯৫৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর কপিল মোহন যখন সংস্থার ভার তুলে নেন নিজের কাঁধে, তখনও ক্ষয়ের যুগ দেখা দেয়নি। সে ছিল ওল্ড মঙ্কের স্বর্ণযুগ। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ারের সুযোগ্য পরিচালনায় দেশের নানা জায়গায় তিনটি ভাটিখানা, ওল্ড মঙ্ক তৈরির দু’টি কারখানা এবং বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি জন্ম নিয়েছিল।

কিন্তু সেই সুখের দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওল্ড মঙ্ক সম্পর্কিত এক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, অনেক দিন ধরেই ওল্ড মঙ্কের বিক্রি কমে এসেছিল। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই কপিল মোহন বিনিয়োগ করতে বাধ্য হন অন্য ব্যবসায়। তাঁর পরিচালনায় জন্ম নেয় কয়েকটি মল্ট হাউজ, কাচের কারখানা, প্রাতরাশের প্যাকেটবন্দি খাবার, জুস-সহ ফল থেকে তৈরি নানা খাবার এবং কোল্ড স্টোরেজও।

ফলে, এক দিকে যেমন তুখোড় শীতের এই মরশুমে ওল্ড মঙ্ক হাতে তুলে নিয়ে কর্ণধারের প্রয়াণের শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে দেশ, তেমনই একটা চাপা আশঙ্কাও কুরে কুরে খাচ্ছে সবাইকে।

রাম-লীলার শেষ প্রহরের ঘণ্টা কি এ বার বাজল বলে?

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here