গোরখপুরে এনসেফেলাইটিসের থাবায় গত চার দশকে ২৫০০০ শিশুর মৃত্যু

0
143

গোরখপুর: আগস্টের ৭ থেকে ১১ তারিখের মধ্যে শহরের বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে বেঘোরে প্রাণ দিল ৬০টি শিশু। মাসের শেষে একই হাসপাতালে প্রাণ গেল আরও ৪২ জনের। এই মৃত্যুর কারণ অবশ্য অক্সিজেনের অভাব নয়। বরং এনসেফেলাইটিস এবং নিউমোনিয়াকেই দায়ী করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে গোরখপুরে এনসেফেলাইটিসের থাবা নতুন কিছু নয়। গত চল্লিশ বছরে এই প্রাণঘাতী রোগের শিকার হয়েছে প্রায় পঁচিশ হাজার শিশু। এই রোগ প্রতিরোধ করার ব্যাপারে কোনো সরকারই কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করেনি। গোরখপুর এবং বস্তি শহরে বর্ষাকালেই দাপট বেশি এনসেফেলাইটিসের।

একটি তথ্যে দেখা যাচ্ছে গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রোগের শিকার হয়েছিল ২২৪টি শিশু। এ বছর ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যাটা ১৭৫। বিআরডি মেডিক্যাল কলেজের এই সূত্রের মতে, “এই মুহূর্তে এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ৩৪৪টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। প্রত্যেক বছর জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে ওই রোগের প্রকোপ বাড়ে।”

গোরখপুরের মানবসেবা সংস্থার ডিরেক্টর রাজেশ মানি। তাঁর মতে, এই রোগের প্রকোপ আটকাতে গেলে শুধুমাত্র আরোগ্যমূলক উপায় দিয়ে হবে না, প্রতিরোধমূলক উপায়ও বের করতে হবে। কিন্তু এনসেফেলাইটিস আগেভাগে প্রতিরোধ করার ব্যাপারে সরকারি তরফে উদাসীনতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আগের সরকার এনসেফেলাইটিস প্রতিরোধের জন্য একশোটি কেন্দ্র চালু করেছিল। কিন্তু এই কেন্দ্রে কোনো কাজই হয়নি। বেশির ভাগ সময়েই কোনো ডাক্তারই এই কেন্দ্রে থাকতেন না। আর যদিও বা থাকতেন, রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার আগেই বড়ো হাসপাতালে ‘রেফার’ করে দিতেন।” বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে মৃত্যুমুখে, যেখানে এই চিকিৎসা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করা উচিত বলে জানান তিনি।

কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে গোরখপুরের স্বাস্থ্যকর্মী ডঃ আরএন সিংহের। এনসেফেলাইটিস ছড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দূষিত জলকেই দায়ী করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আগে জাপানি এনসেফেলাইটিসের প্রকোপ খুব বেশি ছিল। কিন্তু নিয়মিত টিকাকরণের মাধ্যমে সেই প্রকোপ অনেকটাই কমানো গিয়েছে। বর্তমানে যতজন এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছে তার মাত্র ৯ শতাংশ হচ্ছে জাপানি এনসেফেলাইটিসে।”

জাপানি এনসেফেলাইটিস প্রতিরোধে ২০০৫, ২০১০ এবং ২০১৩ সালে ব্যাপক হারে টিকাকরণ করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু শুধু এনসেফেলাইটিস কী ভাবে প্রতিরোধ করা যায় তার জন্য এখনও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি। গোরখপুর বন্যাপ্রবণ এলাকা। সেই কারণে বর্ষাকালে এনসেফেলাইটিসের প্রকোপ বাড়ে।

ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মতে এনসেফেলাইটিস প্রতিরোধ করার জন্য আগে দূষিত জল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু সে দিকে কোনো সরকারই বিশেষ আমল দেয়নি। রাজেশ মানির মতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কেন্দ্র না থাকায় রোগীকে নিয়ে আসতে হয় গোরখপুর শহরে। এর ফলে যাত্রায় প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে যায়। ওই সব অঞ্চলে যদি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকত তা হলে এই যাত্রার সময়টা নষ্ট হয় না।

‘ইন্ডিয়াস্পেন্ড’-এর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ২০০০ সালে রাজ্যে যত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল, ২০১৫-তে সেই তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে আট শতাংশ। ঠিক একই সময়ে রাজ্যের জনসংখ্যা বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

এটা ঠিক যে বিগত সরকারের যা করেছে তার জন্য এই সরকারের ওপর এখনই দোষ চাপানো উচিত নয়। কিন্তু এই সরকারের ওপর এখন বিশাল দায়িত্ব। বিগত সরকার যা করতে পারেনি, সেটাই করে দেখানো। অর্থাৎ এনসেফেলাইটিস প্রতিরোধে আরও সদর্থক ভূমিকা পালন করা।

গ্রেফতার কাফিল খান

সাধারণ মানুষের চোখে যতই নায়ক হন, সরকার তাঁকেই বলির পাঁঠা করেছিল। শনিবার গোরখপুরের বিআরডি হাসপাতালের ডঃ কাফিল খানকে গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ এসটিএফ।

কাফিল খান বিআরডি মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের নোডাল অফিসার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নিজের ক্লিনিক চালানোর জন্য বিআরডি হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচার করতেন। এই অভিযোগ ওঠার পরই কাফিল খানকে হাসপাতালের সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here