জল্লিকাট্টু নিয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করবে না কেন্দ্র : মোদী

0
99

তামিলনাড়ু : জল্লিকাট্টু নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যে কেন্দ্র কোনো অর্ডিন্যান্স জারি করবে না তা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভমকে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার পনিরসেলভমের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামিলদের এই ঐতিহ্যের প্রতি সহানুভূতি আছে তাঁর। কিন্তু জল্লিকাট্টু নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। সেই রায়ের ওপর কোনো রকম কার্যনির্বাহী আদেশ জারি করবে না কেন্দ্র। অন্য দিকে, বেসরকারি সংস্থা পেটা জানিয়েছে, পশুদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার জন্য ক্ষমতা থাকা চাই। পেটা হল একটি বেসরকারি স্বাধীন সংস্থা। এরা পশুস্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে কাজ করে। পেটার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

২০১৪ সালের ৭ মে মাসে জল্লিকাট্টুর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে শীর্ষ আদালত। এর পর থেকে এই নির্দেশ তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন নিবেদন ও বহু বিক্ষোভের জল বয়ে গেছে। কিন্তু তাতেও গত বছরের পোঙ্গলে জল্লিকাট্টুর প্রথা পালন করা যায়নি। এ বছরও সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ের পুনর্বিবেচনা করে জানিয়ে দেয় এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ঐতিহ্য বা প্রথা যাই বলা হোক, তা আইনসম্মত ভাবে পালন করতে পারেননি তামিলনাড়ুবাসীরা। তবে প্রকাশ্যেই তাঁরা শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে চালিয়ে গিয়েছেন জল্লিকাট্টু।  

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ভাঙা এক জিনিস, আর বাধাহীন ভাবে আইনের আওতায় থেকে প্রথা পালন করা আরেক ব্যাপার। তাই তামিলনাড়ুবাসীরা চান সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা উঠুক। সেই কারণে সোমবার থেকেই মেরিনা বিচে প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করেন। স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও শয়ে শয়ে এই বিক্ষোভ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ পর্যন্ত না সুপ্রিম কোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন বন্ধ করবেন না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এই রাজ্য জুড়ে বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ বন্ধ রয়েছে এই বিক্ষোভের জেরে। আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও। ইতিমধ্যেই শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে।

প্রসঙ্গত, বিক্ষোভকারীরা যেমন চাইছেন জল্লিকাট্টুর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। তেমনই চাইছেন পেটার মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হোক। বিক্ষোভকারীদের মত, এই সংস্থাগুলি বিদেশিদের মদতপুষ্ট। এরা চায় দেশীয় পশুর পরিবর্তে বিদেশি বলদ দেশে আমদানি করতে। তাই এই সব সংস্থাকে রাজ্য থেকে সরিয়ে দিতে চান বিক্ষোভকারীরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here