গুজরাতের পর মোদীর সঙ্গে বিদেশে টক্কর দিতে ব্যাগ গুছিয়ে ফেললেন রাহুল, সঙ্গে ‘চাণক্য’

0
556

ওয়েবডেস্ক: কিছুদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল মোদীর সঙ্গে টক্কর নেওয়ার পক্ষে এখনও পরিণত নন ৪৮ বছরের রাহুল গান্ধি।কিন্তু গুজরাত নির্বাচনের পর পালটে গেছে হিসেবটা। গোটা নির্বাচনী প্রচারকালে মোদীর সঙ্গে সমানে সমানে লড়েছেন। ভোটে জিততে না পারলেও প্রায় বিজেপির সঙ্গে প্রায় সমানে সমানে লড়াই করেছে কংগ্রেস। দলিতদের নিয়ে নতুন ধরনের জোটের গেবেষণাও অনেকাংশে সফল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সরকার গঠনের পরও নিত্যনতুন মন্ত্রীর বিদ্রোহে জেরবার বিজেপি সরকার।

কিন্তু গুজরাতে আটকে গেলে তো চলবে না, রাহুল তথা কংগ্রেসের আসল লক্ষ্য ২০১৯-এ পরম শক্তিধর নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদীকে দিল্লিতে হারানো। সেই লক্ষ্যে বড়ো মাপের গেমপ্ল্যান ছকেছেন কংগ্রেসের হাইকম্যান্ড। সেই পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের ৭টি রাজ্যে নির্বাচন যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা।

অনাবাসী ভারতীয় এবং বিদেশি শিল্পপতিদের কাছে নিজের এই ভাবমূর্তি তৈরির ব্যপারটা যে কতটা জরুরি, রাহুল তা দেখেছেন ২০১৪ সালের আগে মোদীর প্রচারে।

সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শেষ হতেই(৫ জানুয়ারি শেষ হবে)আরব সফরে যাচ্ছেন রাগা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে টাউন হলে একটি বড়ো মাপের সভা করবেন কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সভাপতি। দেখা করবেন সারা পৃথিবীর প্রধান প্রধান সংস্থাগুলির সিইও-দের সঙ্গে। পাশাপাশি বৈঠক সেইসব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে, যাদের সংস্থায় ভারতীয়রা চাকরি করেন। মজার ব্যাপার হল, আর কয়েকদিন পরেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও প্যালেস্তাইন সফরে যেতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। তার আগেই রাহুলের এই সফর কংগ্রেসের একটি দারুণ চাল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজ্ঞাপন

এই সফরে রাহুলের সঙ্গে থাকছেন কংগ্রেসের অপর দুই তরুণ নেতা মিলিন্দ দেওরা ও জিতেন্দ্র সিং। আর থাকছেন রাগার ‘চাণক্য’ শ্যাম পিত্রোদা। বিখ্যাত টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ পিত্রোদার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক বহু পুরোনো। এক সময় পাড়ায় পাড়ায় এসটিডি বুথ চালু করে ভারতের টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবার ভোল বদলে দেওয়ার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন তিনি। টেলিকম দুনিয়ায় ভারতের রূপান্তরের পেছেনের যাবতীয় গুরুত্ব সিদ্ধান্তের নেপথ্যেই কোনো না কোনো ভাবে জড়িয়ে আছেন পিত্রোদা। সেই পিত্রোদাই বর্তমানে রাহুলের চাণক্য হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনা হল, ২০১৯-এর লোকসভা ভোট পর্যন্ত চার মাস অন্তর অন্তর রাহুলকে দিয়ে একটি বিদেশ সফর করানো। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় গত সেপ্টেম্বরে। সে সময় আমেরিকার বার্কলে-তে গিয়ে শিল্পপতি ও ছাত্রযুবদের সঙ্গে সভা করেন রাহুল। পুরো সময়ের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাহুলের ভাবমূর্তি তৈরি হয় ওই সভাতেই। গুজরাত ভোটের আগে যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কংগ্রেসের জন্য।

অনাবাসী ভারতীয় এবং বিদেশি শিল্পপতিদের কাছে নিজের এই ভাবমূর্তি তৈরির ব্যপারটা যে কতটা জরুরি, রাহুল তা দেখেছেন ২০১৪ সালের আগে মোদীর প্রচারে। সে সময় এ ব্যাপারে মোদীর মুখ্য পরামর্শদাতা ছিলেন রাম মাধব। প্রচারপর্ব থেকে মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম দু’বছর এ ব্যাপারে বিপুল কাজ করেছিলেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ইভেন্ট। রাহুলের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটাই নিয়েছেন বহু যুদ্ধের নায়ক প্রবীণ শ্যাম পিত্রোদা।

ইতিমধ্যেই রাজস্থান ও গুজরাতের ভোটের জন্য বুথওয়াড়ি বিশ্লেষণের লক্ষ্যে পেশাদারি সংস্থাকে নিয়োগ করেছে কংগ্রেস। কর্নাটকের বিষয়টা দেখছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া নিজেই। তারওপর জোরকদমে চলছে আন্তর্জাতিক স্তরে রাহুল গান্ধীর নেতা হিসেবে ভাবমূর্তি তৈরির প্রয়াস। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের ভোট পর্যন্ত দেশজুড়ে সংসদীয় রাজনীতির জমজমাট থিয়েটার দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতেই পারেন ভারতবাসী।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here