কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রায় নীচে অবৈধ সুড়ঙ্গ আবিষ্কার, চাঞ্চল্য এলাকা জুড়ে

0
varanasi

ওয়েবডেস্ক: শীতের রাত তখন জনশূন্য করে রেখেছে বারাণসীর অলি-গলি। কাশী বিশ্বনাথ মন্দির লাগোয়া গলিপথে নিশি-টহলে ব্যস্ত রয়েছেন বারাণসীর সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট আর কে ভরদ্বাজ। এমন সময়ে তাঁর চোখে পড়ল- গলির ভেন্টিলেটর ভেদ করে মাটির তলা দিয়ে বেরিয়ে আসছে আলোর রেখা। ভেন্টিলেটরে চোখ রাখতেই এর পর শুধু বিস্ময়ের পালা!

উঁহু! বাবা কাশী বিশ্বনাথের অলৌকিক মহিমার গল্প এটা নয়। বরং, সেই গলির মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল এক বড়োসড়ো ষড়যন্ত্রের উদ্যোগ। তেমনটাই অন্তত জানা গিয়েছে বারাণসী পুলিশের তরফে।

varanasi

বিজ্ঞাপন

বারাণসীর সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট আর কে ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, সোমবার কাশী বিশ্বনাথ মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ডালমন্ডি এলাকার ভেন্টিলেটরে চোখ রেখে তিনি মাটির তলায় আবিষ্কার করেন এক বেশ বড়ো সুড়ঙ্গ। “সেখানে তখন কাজ করছিল শ্রমিকরা। একটা হাঁক দিয়ে আমি এক শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করি যে ওখানে কীসের কাজ চলছে! এ-ও জানতে চাই, ওই সুড়ঙ্গে নামার মুখটা কোথায়! তাতে সে আমায় বেনিয়া বাগ হয়ে নীচে নামার কথা জানায়”, বলেছেন ভরদ্বাজ।

ভরদ্বাজের বিবৃতি থেকে জানা গিয়েছে যে ডালমন্ডি থেকে বেনিয়া বাগ হয়ে ওই ২ লক্ষ বর্গফুটের সুড়ঙ্গ চলে গিয়েছে হাফিজ মসজিদ পর্যন্ত। মসজিদের সঙ্গে সেই সুড়ঙ্গের যোগও রয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ভরদ্বাজ জানিয়েছেন যে ওই সুড়ঙ্গে অনেক মুখ আটকানো টিনও মজুত করে রাখা ছিল। তবে ওই সব টিনের মধ্যে কী ছিল, তা বিবৃতিতে জানাননি তিনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরে নড়ে-চড়ে বসেছে বারাণসী ডেভেলপমেন্ট অথরিটিও। আপাতত শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শুধু এটুকুই জানা গিয়েছে যে প্রায় বছর দুয়েক ধরে ওই অবৈধ নির্মাণকার্য চলছিল। অথচ কেউ কেন কিছুই জানতে পারেননি- সেই প্রশ্নটাই ফিরছে পুলিশ থেকে প্রশাসন সবার মুখে মুখে।

varanasi

শ্রমিকদের জেরা করে পাওয়া তথ্যের সূত্রে ওই অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত এক অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র এবং দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাজ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের জেরা করে আপাতত এই অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত অন্যদের তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

বারাণসী পুলিশ জানিয়েছে যে এক ঝলক দেখে মনে হয় ওই অবৈধ নির্মাণটিতে কোনো শপিং মল তৈরির উদ্যোগ চলছিল। বর্তমানে যার বেসমেন্ট তৈরির কাজে নিযুক্ত ছিলেন শ্রমিকরা। তবে ওই সুড়ঙ্গের সঙ্গে মসজিদের যোগসূত্র থাকায় নেপথ্যে কোনো উগ্রবাদী দলের ভূমিকা আছে কি না, সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here