ওয়েবডেস্ক: মুখের উপর ন্যায্য কথা শুনিয়ে দিতে তিনি কোনো দিনই কসুর করেন না। এ ব্যাপারে বলিউডে যেমন, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও ঠোঁটকাটা বলে দুর্নাম রয়েছে অভিনেতা-সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার!

আর এ বার তাঁর কড়া কথার কেন্দ্রে চলে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বলেই মোদী-তোষণের নীতিতে গেলেন না শত্রুঘ্ন। এবং, শুধুই মোদী একা নন। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধিকর্তা স্মৃতি ইরানিকেও এক হাত নিলেন সিনহা।

তা, কী প্রসঙ্গে সিনহার সমালোচনার তোড়ের মুখে পড়লেন মোদী এবং ইরানি?

আরও পড়ুন: ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পাচ্ছেই, সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র বাতিলের আর্জিও খারিজ শীর্ষ আদালতে

‘পদ্মাবৎ’ বিতর্ক ছাড়া আর কী বা হতে পারে! দেশজুড়ে সামান্য একটা ছবির বিরোধিতা করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যে ভাবে আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে চলছে গা-জোয়ারি, তাতে তো সুস্থ মস্তিষ্কের যে কারও বিরক্ত লাগারই কথা! ফলে সিনহা যদি মুখ খুলেই থাকেন, তা হলে তাঁকে দোষ দেওয়াও যায় না।

তবে এ-ও ঠিক, স্বতোপ্রণোদিত হয়ে তিনি কোনো বিবৃতি দিতে যাননি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন- ‘পদ্মাবৎ’ বিতর্ক প্রসঙ্গে অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানের মতো বড়ো তারকা তো বটেই, যাঁরা কি না এখনও যুক্ত আছেন অভিনয় জগতের সঙ্গে, কোনো মন্তব্য করার সাহস দেখাননি! এমনকী শত্রুঘ্ন নিজেও বলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হয়েও বিষয়টির বিরোধিতা করেননি। এ রকম মনোভাব কেন অবলম্বন করলেন তাঁরা ‘পদ্মাবৎ’ প্রসঙ্গে?

প্রশ্নটি করা মাত্র আর বিরক্তি চেপে রাখতে পারেননি সিনহা।

“অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানের মতো বড়ো তারকারা কেন পদ্মাবৎ বিতর্কের বিরোধিতা করলেন না, এ নিয়ে কথা উঠছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কেন এটা আশা করা হচ্ছে যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই একমাত্র পদ্মাবৎ নিয়ে বক্তব্য আছে? বিশেষ করে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেখেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন চুপ করে রয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী তো বটেই, পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধিকর্তা স্মৃতি ইরানিরও বিষয়টি নিয়ে অনেক আগেই মুখ খোলা উচিত ছিল। এখন ব্যাপারটা হাতের বাইরে চলে গেলেও অনিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে যায়নি। এখন অন্তত তাই মুখ খোলাই উচিত! না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়া সব সময়েই কাম্য”, জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘পদ্মাবৎ’-এর মুক্তি আটকানো যাবে না, শীর্ষ আদালতের কড়া হুকুম ৬ রাজ্যকে

একই সঙ্গে ‘পদ্মাবৎ’-এর প্রদর্শন সংক্রান্ত ব্যাপারে শীর্ষ আদালতের রায় নিয়েও মতামত ব্যক্ত করেছেন নায়ক-সাংসদ। “এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। বলতে দ্বিধা নেই- এটাই উচিত সিদ্ধান্ত। যে সব রাজ্যগুলো ছবির প্রদর্শন নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের শীর্ষ আদালতের রায়কে সম্মান জানানো উচিত। তবে এটাও আমি বুঝতে পারছি না- জল এত দূর গড়াল কী ভাবে! এই পরিস্থিতি তো অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া যেত! কিন্তু, ওঁরা কেউ নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেন না। উল্টে, পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে দিলেন”, বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর!

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here