সমীক্ষায় ধরা দিল বিস্ফোরক তথ্য, কৃষকদের বিয়ে করতে রাজি নন দেশের কোনো মেয়েই!

0
1119
farmer

ওয়েবডেস্ক: প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ করে ভূমিকে উর্বরা করে তোলেন তাঁরা। অথচ, এবার দেশের কৃযকদের পরিবারেই কি নেমে আসতে চলেছে অনুর্বরতার অভিশাপ?

নতুন বছরের শুরুতে দেশব্যাপী চলা এক সমীক্ষার রিপোর্ট অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। জানা গিয়েছে, স্বামী হিসাবে কৃষকদের বরণ করতে আদৌ প্রস্তুত নন দেশের মেয়েরা!

কারণ হিসাবে উঠে আসছে কৃষকদের অনিয়মিত উপার্জনের দিকটাই। যেমনটা বলছেন মহারাষ্ট্রের বছর ৩২-এর কিশোর সালভে। কিশোরের পৈতৃক জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। সেচের জলে নিয়মিত পুষ্টও হয় সেই জমি। এ ছাড়াও কিশোরের রয়েছে লাইব্রেরি সায়েন্সের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং এডুকেশনে ডিপ্লোমা। চাষ থেকে মাসে অন্তত হাজার কুড়ি টাকা তাঁর ঘরে ওঠেই! কিন্তু তা-ও তাঁর বিয়ের কথা কিছুতেই পাকা হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ৩০টি পরিবারে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মা-বাবা। “মেয়েরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা সরকারি অফিসের পিওনকেও বিয়ে করতে রাজি আছেন, কিন্তু কৃষকদের নন”, জানিয়েছেন কিশোর।

একই অবস্থা ছিল কর্নাটকের বিশ্বাস বেলকরেরও। তাঁর চাষের জমির পরিমাণ প্রায় আড়াই একর। সেই জমিতে তামাক চাষ করেন তিনি। স্বচ্ছল পরিবারের তিনিই একমাত্র সন্তান। “অথচ কোনো মেয়েই আমায় বিয়ে করতে রাজি ছিল না। শেষে স্রেফ বিয়ে করার জন্য বাধ্য হয়ে আমি নিকটবর্তী হুপরি শহরে রুপোর কাজ করতে শুরু করি। এর পর আমার বিয়ে হতে দেরি হয়নি। যদিও বিয়ের বছরখানেক পরে আমি আবার চাষের কাজেই ফিরে গিয়েছি”, বলছেন বিশ্বাস। যদিও ভাইয়ের এই দশা দেখেও দুই বোন বনিতা আর সবিতা কৃষককে বিয়ে করতে রাজি নন!

“এই ছবিটা আপনি দেখতে পাবেন সারা দেশেই। কোনো মেয়ে, সে খুব গরিব পরিবারের হলেও কৃষক পাত্রকে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না”, জানিয়েছেন কর্নাটক রাজ্য রায়ত সঙ্ঘর এক সদস্য সৌম্যা এস আর। অন্য দিকে, মধ্য প্রদেশের বর্ষীয়ান কৃষক নেতা শিব কুমার শর্মা দাবি করছেন- “এরকম চলতে থাকলে কৃষকদের তরুণ প্রজন্ম অবিবাহিতই থেকে যাবে। আর মেয়েদেরই বা দোষ দিই কী করে! ফলনের ব্যাপারটা এখন এ রাজ্যে খুবই অনিশ্চিত। কোন মেয়ে না খেয়ে থাকা পছন্দ করবে”?

তবে, শুধুই খরা-কবলিত দরিদ্র কৃষকরা এই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নেই। সবুজ বিপ্লবের রাজ্যেও ছবিটা একই রকম। “আমার ছেলে কাজ খুঁজে আমেরিকায় চলে গিয়েছে। মেয়ে গাইনোকোলজিস্ট। সে-ও ওখানেই থাকে। ওরা কেউ এ দেশে ফিরবে না। বা ফিরলেও চাষের কাজে যোগ দেবে না। এখানেও যে কেউ কৃষকদের বিয়ে করতে প্রস্তুত নয়”, বলছেন লুধিয়ানার সম্পন্ন কৃষক সুরিন্দর সিং।

সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশে ৯০ লক্ষেরও বেশি কৃষক কৃষিকাজ থেকে সরে এসেছেন। এই সংখ্যাটা প্রতি বছরে বেড়েই চলেছে। সমস্যা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে দেশের অনলাইন ম্যারেজ সংস্থাগুলিও এখন আর কৃষক বলে পরিচয় দিলে প্রোফাইল খুলতে দিচ্ছে না।

যদিও সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হবে! কিন্তু তাতে ভরসা পাচ্ছেন না দেশের কৃষকরা। “কী উন্নতি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য, কে জানে! আমি শুধু দেখছি, আমাদের বিয়ের সম্ভাবনা বলে কিছুই থাকছে না”, বলছেন মহারাষ্ট্রের কিশোর সালভে।

এ সবই অবশ্য সম্পন্ন বা মধ্য কৃষকদের কথা। গরিব কৃষক বা ভূমিহীন খেতমজুরদের পাত্রী জোটানোয় কোনো সমস্যা নেই। কারণ, সেই সব পাত্রীদের পেশা অনুযায়ী ছেলে বাছাই করার তেমন কোনো সুযোগ নেই।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here