বাবা-মা খুন করেননি আরুষিকে, জানাল আদালত, জেনে নিন ঘটনাক্রম

0
1131

ইলাহাবাদ: আরুষি তলোয়ার খুনের ঘটনায় ছাড়া পেয়ে গেলেন মৃত কিশোরীর বাবা-মা। ২০০৮ সালে কিশোরী আরুষিকে গলার নলি কেটে খুন করা হয় তাঁদের নয়ডার ফ্ল্যাটের বেডরুমে। তারপর ফ্ল্যাটের ছাদে মৃতদেহ পাওয়া যায় নেপালি গৃহকর্মচারী হেমরাজের। দুই খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয় আরুষির দন্ত চিকিৎসক বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। বাবা রাজেশ তলোয়ারকে গ্রেফতার করা হলেও দুই মাস পর তিনি জামিন পান। অভিযোগ ছিল, আরুষি ও হেমরাজের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই, দুজনকে ‘সম্মানরক্ষায় খুন’ করেন ওই দম্পতি। ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতকে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই থেকে জেলেই ছিলেন ওই দম্পতি। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেন তলোয়ার দম্পতি। সেই মামলাতেই বৃহস্পতিবার ছাড়া পেলেন ওরা। আদালত জানিয়েছে, তলোয়াররাই যে খুনি, এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তাই তাঁদের বেনিফিট অব ডাউট দেওয়া হল।

দেখে নিন আরুষি হত্যা-মামলার ঘটনাক্রম

  • ২০০৮ সালের আগস্টে ফ্ল্যাটের বেডরুমে গলার নলি কেটে হত্যা করা হয় আরুষিকে। ঘটনার কয়েকদিন পরই ১৪ বছর পূর্ণ হত তাঁর। ঘটনার পর থেকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না গৃহভৃত্য হেমরাজকে। খুনের জন্য তাঁকেই সন্দেহ করা হয়। পরের দিন ছাদে পাওয়া যায় হেমরাজের মৃতদেহ।
  • ঘটনার সাত দিন পরই গ্রেফতার করা হয় আরুষির বাবা রাজেশ তলোয়ারকে। তার দুমাস পরেই জামিন পান তিনি। ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে জেলেই রয়েছেন রাজেশ ও তাঁর স্ত্রী নুপূর তলোয়ার।
  • আরুষির খুন নিয়ে গোটা দেশে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। জনমত বিভক্ত হয়ে যায়। জোড়া খুনের ঘটনা নিয়ে লেখা হয়েছে বই, তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র।
  • নিম্ন আদালতে মেয়েকে খুনের জন্য তলোয়ার দম্পতি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, সিবিআই তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল আদালতে।
  • তদন্তের প্রাথমিক অবস্থায় নয়ডা পুলিশ দাবি করেছিল, আরুষি ও হেমরাজকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেই দু’জনকে খুন করেন তলোয়ার দম্পতি। কিন্তু তাঁদের দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা ফরেনসিক রিপোর্ট দেখাতে পারেনি পুলিশ।
  • আরুষির বাবা-মা নিজেদের নিদোর্ষ বলে দাবি করেন। এবং বলেন, গণমাধ্যমই তাঁদের অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে।
  • যে বিচারক তাঁদের চার বছর আগে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন, তিনি বলেন তলোয়াররা ঘটনার প্রমাণও লোপাট করে দিয়েছেন।
  • প্রাথমিক পুলিশি তদন্তের ব্যাপক সমালোচনা হয়। তারপর তদন্তের ভার সিবিআই-কে দেওয়া হয়। সিবিআই মূলত পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা সাজায়। কিন্তু তাঁরা বলে, ওই তথ্যপ্রমাণেই নিশ্চিন্তে বলা যায় যে তলোয়ার দম্পতিই মেয়েকে খুন করেছে।
  • ২০১০ সালের ডিসেম্বরে সিবিআই আদালতে বলে, তাঁরে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাচ্ছেন না কিন্তু তাঁদের সন্দেহ রাজেশ তলোয়ারই খুনদুটি করেছেন। কিন্তু আদালত জানায়, মামলা বন্ধ করা যাবে না।
  • আদালতে সিবিআই বলে, তলোয়ারদের ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙা হয়নি। অর্থাৎ দুটি খুনই ‘বাড়ির মধ্যেকার ঘটনা’। সিবিআই ‘শেষ দেখার তত্ত্ব’-ও প্রয়োগ করে মামলায়। যাতে তাঁরা জানায়, যে দুজনকে খুন করা হয়েছে, তাঁদের দুজনকেই ঘটনার রাতে তলোয়ার দম্পতির সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here