নীতি-পুলিশের চোখরাঙানি, কর্নাটকে যুবতীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার বিজেপি যুব নেতা

0

বেঙ্গালুরু : নীতি-পুলিশের চোখরাঙানি প্রাণ নিল ২০ বছরের এক যুবতীর। ঘটনায় গ্রেফতার ভারতীয় জনতা পার্টির যুব মোর্চার একজন নেতা।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকে মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে চলা একটা চ্যাটে ওই যুবতী লিখেছিল ‘আই লাইক মুসলিমস’। নীতি-পুলিশের কাছে এই ছিল যুবতীর অপরাধ।

ঘটনা কর্নাটকের চিকমাগালুরের মুদিগিরি এলাকার। বি কমের পড়ুয়া ২০ বছরের ধান্যশ্রী। মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অপরাধে যা-তা ভাবে অপমানিত করা হয় তাকে আর তার পরিবারকে। ঘটনার পরই নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ধান্যশ্রী। রেখে যায় একটা চিঠি। তাতেই উল্লেখ ছিল একজন নীতি-পুলিশের নাম। সেই সূত্র ধরেই মুদিগিরি পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্ত এ ভি অনিলকে।

বিজ্ঞাপন

চিকমাগালুরের পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট কে আন্নামালাই বলেন, ধান্যশ্রী শনিবার রাত ১০টায় আত্মহত্যা করে। ঘটনার আগে সন্ধে ৬টা নাগাদ তাদের বাড়িতে চড়াও হয় বিজেপির পাঁচ নীতি-পুলিশ। তারা নরমে গরমে যুবতী আর তার পরিবারকে নানা ভাবে ভয় দেখায়, তাদের অভিযোগ ছিল ধান্যশ্রী সোশ্যাল মাধ্যমে একজন মুসলিম যুবকের সঙ্গে নিয়মিত বাক্যালাপ করে, কলেজের বাইরে দেখা করে কথা বলে। এটি লাভ জিহাদের দিকে মোড় নিতে চলেছে। এ সব বন্ধ করতে হবে।

এই ঘটনার পরই আত্মহত্যা করে যুবতী। চিঠিতে সে লিখে গিয়েছে, অনিল আর বাকি চারজন তাকে অকারণে দায়ী করেছে। একটা মিথ্যে সম্পর্কের দায় চাপিয়ে দিয়েছে তার ওপর। ওই মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ধান্যশ্রীর করা পোস্টে অনেকেই নানান তীর্যক মন্তব্য করেছে। তাদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। সকলকেই গ্রেফতার করা হবে।

সংবাদমাধ্যমকে পুলিশ জানিয়েছে, ধান্যশ্রীর মা সরস্বতী সুবর্ণা বলেছেন, বজরঙ্গ দলের সক্রিয় সদস্য সন্তোষও তাঁদের বেশ কয়েক বার শাসিয়েছে। তাঁর মেয়েকে ভয় দেখিয়েছে। অপমান করেছে। ধান্যশ্রী ফেসবুকে কেন মাথায় কাপড় দেওয়া ছবি পোস্ট করেছে তা নিয়ে চড়াও হয়েছে। এমনকি তাঁকেও সাবধান করে দিয়েছে। বলেছে, মেয়েকে সামলে রাখতে।

পুলিশ এই ঘটনাকে ‘অনৈতিক গুন্ডাগিরি’ আখ্যা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here